সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর ধোপাখালি এলাকায় অনার্স পড়ুয়া গৃহবধূ সুমি দাশ চৌধুরীর (২১) রহস্যজনক মৃত্যু আত্মহত্যা থেকে এখন হত্যা মামলায় রূপ নিয়েছে।
নিহতের মা বাবলী রানী চৌধুরীর অভিযোগের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনা ঘটে গত ৭ জানুয়ারি বুধবার সন্ধ্যায়। জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শাশুড়ি বাসার ছাদে কাপড় শুকানো শেষে রুমে ফিরে এসে দেখেন সুমি ঘরের দরজা বন্ধ করে রেখেছে। ডাকাডাকির পর দরজা খুলে ঘরে ঢুকে সুমি দাশকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে নিচে নামিয়ে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক সুমিকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর শশুর বাড়ির লোকজন দাবি করেন—সুমি আত্মহত্যা করেছেন। তবে মেয়েপক্ষের দাবি—এটি হত্যা। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে ৮ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা রুজু করা হয়। মামলা নং—৯, জিআর নং—৯, ধারা ৩০২/৩৪ (পেনাল কোড ১৮৬০)। আসামিরা হলেন— ১️ কিশাল শেখর দাস (২৪) — স্বামী (গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে প্রেরণ) ২️ রিপা রানী দাস (৫০) — শাশুড়ি, ৩ কুলেন্দু শেখর দাস — শ্বশুর, সাংবাদিক মোহনা টিভি সুনামগঞ্জ। নিহতের ভাই মিল্টন চৌধুরী অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই সুমিকে নির্যাতন করা হতো। কয়েক মাস আগে মারধরের ঘটনায় সুমিকে তারা বাড়িতে নিয়ে চিকিৎসা করান। দুই মাস আগে শ্বশুর–শাশুড়ি বুঝিয়ে সুমিকে আবার সুনামগঞ্জে নিয়ে যান। কিন্তু এর মধ্যেই বোনকে ‘হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক’ সাজানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে শ্বশুরবাড়ির দাবি—সুমি মানসিক অভিমানে আত্মহত্যা করেছেন। তারা বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন; এমনকি স্বামী কিশাল হাসপাতালে গিয়ে ভেঙে পড়েন। শ্বশুর কুলেন্দু শেখর দাস দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি অফিসে ছিলেন। তবুও তাকে কেন আসামি করা হলো—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. রতন সেখ বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগে হত্যা মামলা রুজু হয়েছে। স্বামী কিশালকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টেই মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে।”


