সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে রাত নামলেই হঠাৎ বদলে যায় পরিবেশ। বিশেষ করে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের গামাইতলা—এলাকাটি যেন অন্ধকার নামলেই পরিণত হয় চোরাকারবারিদের অচেনা পথে। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় পেয়াঁজ ও বিড়ির ছোট-বড় চালান এই পথ ধরে ঢোকে—এমন অভিযোগ অনেক দিনের। সেই অভিযোগের সত্যতা মিলল সোমবার ভোররাতে পুলিশের আকস্মিক অভিযানে।
নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আকবর হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার এমন উচ্চঝুঁকির এলাকায় অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনায় ওসি (তদন্ত) ওয়ালী আশরাফ খান নেতৃত্ব দেন অভিযানিক দলকে। ভোররাতের নিস্তব্ধতা ভেদ করে গামাইতলায় পৌঁছায় পুলিশ। টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে গেলেও রেখে যায় তাদের চোরাই মাল—জঙ্গলে ছাপ, ঘরের পেছনে বস্তা আর ছড়িয়ে থাকা বিড়ির গন্ধ।
তল্লাশিতে বেরিয়ে আসে একটি বড় চিত্র—মোট ৫৮ বস্তা ভারতীয় পেয়াঁজ (প্রায় ১,৭৫০ কেজি) এবং ৪০ হাজার শলাকা নাসির বিড়ি। সাবেক মেম্বার ফারুক মিয়ার বাড়ির পেছনে পণ্যগুলো মজুত করে রাখা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে—রাতের আঁধারে সীমান্ত পেরিয়ে আসা এসব পণ্য দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল।
ধনপুর ইউনিয়নের গামাইতলা বরাবরই সীমান্তপথে চোরাচালানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়রা বলেন—রাতে অচেনা মানুষের আনাগোনা দেখা যায়, কখনও মোটরসাইকেল, কখনও বস্তা বয়ে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তির ছিছিঁড় ধরার শব্দ শোনা যায়। পুলিশি টহল কম থাকায় চক্রটি এখানে সক্রিয় ছিল। কিন্তু নতুন ওসি যোগদানের পর পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।
ওসি মোহাম্মদ আকবর হোসেন বলেন,“ধনপুর ইউনিয়নের গামাইতলা সীমান্তবর্তী হওয়ায় ভারতীয় চোরাই পণ্য প্রবেশের ঝুঁকি বেশি। সংবাদ পাওয়ার পরপরই আমরা অভিযান চালাই। মালামাল জব্দ করা হয়েছে, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে। সীমান্তের নিস্তব্ধ রাত ভাঙার এই অভিযান স্থানীয়দের মাঝে নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে—চোরাকারবারিদের পথ এবার সঙ্কুচিত হচ্ছে।
পড়ুন: বগুড়ার ডিসির বিরুদ্ধে মামলা
দেখুন: দিনাজপুরে হলি ল্যান্ড কলেজ এইচএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ
ইম/


