০৯/০২/২০২৬, ১৪:১৮ অপরাহ্ণ
26 C
Dhaka
০৯/০২/২০২৬, ১৪:১৮ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

সুনামগঞ্জ হাওরাঞ্চলে মাটির বদলে পাকা রাস্তা, দুটি উপজেলায় ৫ কোটি টাকায় নির্মিত হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলখ্যাত বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলায় গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে টিআর ও কাবিটা প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫৩টি গ্রামীণ সড়কসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়। মাটির রাস্তার পরিবর্তে স্থায়ী সিসি পাকা সড়ক নির্মাণে গুরুত্ব দেওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে দুই উপজেলায় অন্তত ১০০টি সিসি পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত পুরনো মাটির রাস্তাগুলোকে ৮ থেকে ১৩ ফুট প্রস্থ এবং ৫০০ থেকে ১ হাজার মিটার দৈর্ঘ্যে পাকা করে গ্রামীণ চলাচলের স্থায়ী সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। দুই উপজেলায় ১০০টি গ্রামীণ সিসি পাকা সড়ক ও ৫৩টি মাটির রাস্তা নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা। এতে উপজেলার লাখো মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমও দৃশ্যমান হয়েছে।

বিশ্বম্ভরপুর–তাহিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে কাবিটা কর্মসূচির আওতায় ১ কোটি ২৫ লাখ ২৩ হাজার ৩৬৮ টাকা এবং টিআর প্রকল্পে ১ কোটি ২৪ লাখ ৬০ হাজার ৭৮০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই বরাদ্দের মাধ্যমে ৫টি ইউনিয়নে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি ছোট সিসি পাকা সড়ক, একাধিক কালভার্ট এবং কিছু মাটির রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।অন্যদিকে তাহিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে কাবিটা ও টিআর প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ৪৯ লাখ ৩৫৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ১০৭টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পের অধিকাংশই সিসি পাকা সড়ক ও মাটির রাস্তা নির্মাণসংক্রান্ত। এর মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ বরাদ্দ পাকা সড়ক নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে। অবশিষ্ট বরাদ্দ মসজিদ ও মন্দির উন্নয়নে ব্যয় করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা জানান, অতীতে বিভিন্ন সময়ে গ্রামীণ সড়কে মাটির কাজ হলেও সেগুলো টেকসই হয়নি। এবারও শুরুতে মাটির কাজের জন্য প্রকল্প জমা দেওয়ার চিন্তা করা হয়েছিল। তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সরেজমিন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে সামান্য মাটির কাজ করে একই বরাদ্দে পাকা সড়ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। এতে প্রথমে বিস্মিত হলেও পরে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়রা উদ্যোগটিকে স্বাগত জানান। বর্তমানে প্রায় ৬০ শতাংশ সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ধীরে ধীরে এই প্রক্রিয়ায় উপজেলার অবশিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কগুলোও পাকা হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা। এসব সড়ক স্থানীয় বাজার, গ্রামীণ প্রধান সড়ক ও পাড়া-মহল্লার সঙ্গে সংযোগকারী লিংক সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুনাব আলী বলেন,“স্থানীয় সরকার আমাদেরকে সাধারণত অল্প বাজেট দেয়। অনেক সময় এই বাজেটে বিভিন্ন প্রভাবশালীদের নজর পড়ে, ফলে বরাদ্দ সঠিকভাবে কাজে লাগে না। কিন্তু এবার অল্প বাজেট দিয়েও আমরা এলাকায় একাধিক পাকা সড়ক করতে পেরেছি। বাজেট বাড়ানো হলে এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপর অযাচিত চাপ না থাকলে গ্রামীণ উন্নয়ন আরও সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।” শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আলী হায়দার বলেন, “আমার ইউনিয়ন আয়তনে বড় হলেও বরাদ্দ কম। তারপরও এই বরাদ্দে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এতে এলাকার হাজারো মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছে এবং তারা দীর্ঘদিন এই সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। ইউনিয়ন পরিষদকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিলে বদলে যাবে গ্রামবাংলা।

বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুহিবুল ইসলাম বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় আমরা মোট ১৫৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ বরাদ্দ গ্রামীণ পাকা সড়ক নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে লাখো মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ, স্থায়ী ও টেকসই হবে। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।”

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মতিন খান বলেন, “সুনামগঞ্জ একটি বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চল। প্রতি বছর মাটির রাস্তা তৈরি হলেও তা আবার ধসে যায়। তাই এবারের বরাদ্দে আমরা স্থায়ী কাজের ওপর জোর দিয়েছি। চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের অনুরোধ করেছি মাটির কাজের বদলে পাকা সড়কের প্রকল্প দিতে। তারাও সহযোগিতা করেছেন। কাজের মান নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতি রোধে কঠোর নজরদারি ছিল। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে স্থানীয় সরকারের উন্নয়ন আরও দৃশ্যমান হবে এবং মানুষ উপকৃত হবে।বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলায় গ্রামীণ সড়ক পাকা হওয়ায় হাওরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত, বাজারসংযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় নতুন গতি এসেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় স্থায়ী পরিবর্তন আসবে।

পড়ুন- বন্ধ ট্রেন চালু ও সময়সূচি পরিবর্তনের দাবিতে সরিষাবাড়ীতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন