বিজ্ঞাপন

সুপার ওভারে হারলো বাংলাদেশ

সুপার ওভারে এক উইকেটে ১০ রান তুলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একটি চার মারেন হোপ। বাংলাদেশ ১১ রানের লক্ষ্য স্পর্শ করতে পারেনি। এক উইকেটে তুলতে পারে ৯ রান। সুপার ওভারে জেতায় সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

সুপার ওভারে শুরুতে একটি ওয়াইড ও নো বলের সুবাদে ৪ রান পায় বাংলাদেশ। পরের বলেও নেয় একটি রান। দ্বিতীয় বলটি ডট গেলে তৃতীয় বলে আসে সিঙ্গেল। চতুর্থ বলে মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন সৌম্য। পঞ্চম বলে নেমে নতুন ব্যাটার শান্ত নেন একটি রান। পরের বলে আবার ওয়াইড দেন আকিল। ষষ্ঠ বলে সমীকরণ দাঁড়ায় ৩ রানের। সেই সমীকরণ মেলাতে পারেননি সাইফ।

বাংলাদেশের কাছ থেকে ম্যাচ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টায় ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৬ বলে দরকার ছিল ৫ রান। শেষ ওভারে এসে আকিল হোসেনকে (১৬) বোল্ড করে নবম উইকেটের পতন ঘটিয়ে ম্যাচ জমিয়ে দেন সাইফ হাসান। শেষ বলে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৩ রান। খ্যারি পিয়েরে ক্যাচ তুললেও সোহান সেটা নিতে পারেননি। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুই রান নেওয়ায় স্কোর টাই হলে ম্যাচ চলে যায় সুপার ওভারে। বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে এই প্রথম টাই হলো কোনও ম্যাচ।

সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে ৪৪ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে তুলেছেন মূলত জাস্টিন গ্রিভস ও শাই হোপ। ৪৪ রান যোগ করেন তারা। দলের ১৭৭ রানে গ্রিভসের রান আউটে ভেঙেছে জুটি। গ্রিভস ৩৯ বলে ২ চারে ২৬ রান করেছেন।

ষষ্ঠ উইকেট পতনের পর রোস্টন চেজের ওপর দায়িত্ব ছিল টিকে থাকার। কিন্তু ৩৩.৬ ওভারে তাকে বিদায় দিয়েছেন নাসুম আহমেদ। তিনি ৫ রানে গ্লাভসবন্দি হয়েছেন। শুরুতে অবশ্য আম্পায়ার আউট দেননি। তার পর রিভিউ নেওয়াতে মেলে সাফল্য।

পাঁচ উইকেট পতনের পর স্কোরের গতি বাড়াচ্ছিলেন গুডাকেশ মোটি। যদিও বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি। ৩২.১ ওভারে রিশাদের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি। তাতে ১২৮ রানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারায় তাদের তৃতীয় উইকেট।

নতুন ব্যাটার শেরফানে রাদারফোর্ডের ফিরতেও সময় লাগেনি। শত রান পার হওয়ার পর তানভীরের দ্বিতীয় শিকার হন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ পঞ্চম উইকেট হারায় ১০৩ রানে।

রিশাদের বলে অগাস্টের আউটের পরের ওভারে আঘাত হেনেছেন তানভীর ইসলামও। ক্যাচ দিয়ে ১৭ রানে ফিরেছেন আকিম অগাস্ট। তাতে দ্রুত সময়ে আরও একটি উইকেট হারিয়ে বিপদে সফরকারী দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ চতুর্থ উইকেট হারিয়েছে ৯০ রানে।

আথানেজের সঙ্গে জুটি ভাঙলেও সেট ব্যাটার হিসেবে প্রান্ত আগলে খেলছিলেন কেসি কার্টি। দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন তিনি। ২১.২ ওভারে তাকে ৩৫ রানে থামিয়েছেন রিশাদ হোসেন। কার্টির ৫৯ বলের ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ১টি ছয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ তৃতীয় উইকেট হারায় ৮২ রানে।

শুরুর ওভারে নাসুমের আঘাতের পর পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটি গড়েছিলেন আলিক আথানেজ ও ক্যাসি কার্টি। আক্রমণে এসেই ১৩.৩ ওভারে এই জুটি ভেঙেছেন রিশাদ হোসেন। তার বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে ফিরেছেন আথানেজ। রিভিউ নিয়েও রক্ষা পাননি। আথানেজের ৪২ বলে করা ২৮ রানের ইনিংসে ছিল ৪টি চার।

২১৪ রানের লক্ষ্য দিয়ে শুরুর ওভারেই আঘাত হানেন নাসুম আহমেদ। ওপেনার ব্র্যান্ডন কিংকে এবার আর টিকতে দেননি তিনি। শূন্যতে এলবিডাব্লিউ করেছেন। তার পর অবশ্য জুটি গড়ে খেরছেন আলিক আথানেজ ও কেসি কার্টি। তাদের ব্যাটিংয়ে ১০ ওভারে এক উইকেটে ৩৪ রান তুলেছে ক্যারিবিয়ানরা।

মিরপুরের রহস্য পিচ বলে কথা। স্পিনারদের দিয়েই ৫০ ওভারের বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে তারা। তবে স্পিনি বোলিং নিয়ে রিশাদ হোসেনের শেষ দিকের ঝড় থামাতে পারেনি। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সিরিজ জিততে ৭ উইকেটে ২১৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ।

রিশাদ যখন নামেন তখন স্কোর বেশি ছিল না। ৪৫.৬ ওভারে ৭ উইকেটে ১৬৩ রান। সেখান থেকে এক রিশাদ হোসেনই ১৪ বলে ৩ চার ও ৩ ছক্কায় তুলেছেন ৩৯ রান। তার ব্যাটেই দুইশ ছাড়িয়ে চ্যালেঞ্জিং স্কোর দিতে পেরেছে স্বাগতিক দল। প্রান্ত আগলে থাকা মিরাজ ৫৮ বলে ১ চারে ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন। মিরাজ-রিশাদের জুটিতে ২৪ বলে আসে ৫০ রান!

এর আগে বাংলাদেশ নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। সর্বোচ্চ ৪৫ রানে দলকে এগিয়ে দিয়েছেন সৌম্য সরকার।

ক্যারিবিয়ানদের হয়ে মোটি ৩ উইকেট পেলেও সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছিলেন তিনি। ৬৫ রান খরচ করেছেন। তার ৪৯তম ওভারেই রিশাদ তুলেছেন ১৮ রান! দুটি করে নিয়েছেন আকিল হোসেন ও আলিক আথানেজ।

মিরপুরের স্লো পিচে প্রত্যাশিত রান জমা হয়নি স্কোরবোর্ডে। নুরুল হাসান নেমে দ্রুত গতিতে খেলে রান বাড়িয়ে নিচ্ছিলেন। ২৪ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ২৩ রান করেন তিনি। তাকে ৪৫.৬ ওভারে থামিয়েছেন গুডাকেশ মোটি। তাতে ১৬৩ রানে পড়েছে বাংলাদেশের সপ্তম উইকেট।

সৌম্যর বিদায়ের পর ধরে খেলার জন্য নেমেছিলেন নাসুম। মিরাজ সঙ্গে থাকলেও রান বাড়াচ্ছিলেন মূলত তিনি। কিন্তু মিরাজের সঙ্গে ২৫ রান পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছে এই জুটি। মোটির বলে ৩৮.১ ওভারে একটি ছক্কা মারার পর একই ওভারের তৃতীয় বলে ১৪ রানে ক্যাচ তুলে ফিরেছেন নাসুম। বাংলাদেশ ষষ্ঠ উইকেট হারায় ১২৮ রানে।

শুরু থেকে প্রান্ত আগলে দলকে টেনে নেওয়ার মূল দায়িত্বটা পালন করছিলেন সৌম্য সরকার। বড় শটসও খেলছিলেন তিনি। মিরপুরের পিচে প্রত্যাশিত মাত্রায় রান না পাওয়ার চ্যালেঞ্জে শেষ পর্যন্ত ধৈর্য হারিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তিনি। বড় শট খেলতে গিয়ে সৌম্য ৪৫ রানে তালুবন্দি হয়েছেন। তার ৮৯ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ১টি ছয়। বাংলাদেশ পঞ্চম উইকেট হারায় ১০৩ রানে।

মাহিদুল-সৌম্যর জুটিও বেশি বড় হলো না। ক্যারিবিয়ানদের টাইট বোলিংয়ে রান বাড়াতে বড় শট খেলতে গিয়ে সাজঘরের পথ ধরেছেন মাহিদুল। ৩৫ বল খেলে ২ চারে ১৭ রানে ফিরেছেন তিনি। তার উইকেট শিকার করেছেন আথানেজ। বাংলাদেশ চতুর্থ উইকেট হারায় ৯৬ রানে।

হৃদয়ের আউটের পর সৌম্যর সঙ্গে জুটি গড়ে খেলার চেষ্টা করছিলেন শান্ত। কিন্তু বিলাসী শট খেলার মাশুল দিয়েছেন তিনি। ১৭.২ ওভারে আথানেজের বলে টেনে মেরে খেলতে গিয়ে শান্ত ১৫ রানে কাটা পড়েছেন। তার ২১ বলের ইনিংসে ছিল ২টি চার। বাংলাদেশ তৃতীয় উইকেট হারায় ৬৮ রানে।

২২ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর স্কোরবোর্ড সচল রাখার চেষ্টা করছিলেন তাওহীদ হৃদয়। সৌম্যকে সঙ্গে নিয়ে ১০ ওভারে এক উইকেটে স্কোর নিয়ে যান ৪০ রানে। ১০.৩ ওভারে গুডাকেশ মোটি প্রলুব্ধ করার মতো বল দিয়ে হৃদয়কে ক্যাচ আউট করেছেন। ফেরার আগে ১৯ বলে ২ চারে ১২ রান করেছেন হৃদয়। বাংলাদেশ দ্বিতীয় উইকেট হারায় ৪১ রানে।

সৌম্য সরকার দারুণ ব্যাটিংয়ে রান জমা করলেও ব্যর্থ হয়েছেন আরেক ওপেনার সাইফ হাসান। ছক্কার মারার পরের বলেই (৪.৪ ওভারে) আকিল হোসেনের বলে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তিনি। তাতে টানা দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যর্থ সাইফ আউট হয়েছেন ৬ রানে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ধারাবাহিকতা ওয়ানডেতে টেনে আনতে পারছেন না। বাংলাদেশ প্রথম উইকেট হারায় ২২ রানে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে টস হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে শুরুতে ব্যাটিং করতে পেরেছিল। সিরিজ নিশ্চিতের লক্ষ্যে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণিতে প্রথম ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৩৫ রানে ৬ উইকেট নেন রিশাদ।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : রিশাদের ঝড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২১৪ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন