নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়নে চাঁদা না পেয়ে তিনটি বসতবাড়ি ও একটি নির্মাণাধীন দোকানে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. জাফর ইকবাল ও তার সঙ্গীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে।
চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে আজ রবিবার (৯ মার্চ) সকালে উপজেলার নানুপুর ইসলাম কাজী বাড়ি মসজিদের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, ৫ই আগষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পটপরিবর্তনের পর বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে ও দলীয় সাইনবোর্ড ব্যবহার করে রাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জাফর ইকবালের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী নিরীহ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছে। যারাই এই সন্ত্রাসীদের চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তাদের ওপর চালানো হয়েছে হামলা, নির্যাতন ও লুটপাট।
বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক রাজগঞ্জ ইউনিয়নের নানুপুর ও বাকিপুর গ্রামের সিরাজ মিয়ার নতুন বাড়ির মো. সবুজ, বাকীপুর নোয়া বাড়ির মো. ইসমাইল ও আমির হোসেন, আকবর হোসেনের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জাফর ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা।
এতে সন্ত্রাসীদের চাহিত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত শুক্রবার রাতে তারাবির নামাজ চলাকালীন সময়ে জাফরের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা সবুজ, ইসমাইল ও আমিরের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর চালিয়ে নগদ টাকা ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
এর আগে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আকবর হোসেনের কাছ থেকেও চাঁদার টাকা না পেয়ে তার নির্মাণাধীন দোকানঘর ও বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভাংচুর করে এই সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসী জাফর ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ জানালেও আসামীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।
মানববন্ধনে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো.জাফর ইকবাল জানান, তারা নিজেদের ঘর নিজেরা ভাঙচুর করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। আমি এসব ঘটনার সঙ্গে কোনভাবেই জড়িত নয়।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান জানান, অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এনএ/


