গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে সোনারগাঁও উপজেলা সহকারী ভূমি অফিসার তৌফিকুর রহমান আলাবদী গ্রামের মেনিখালি মৌজায় অবস্থিত আরএস ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি ভূমি দাগ নম্বর ৩৭৪ ও ৩৭৫-এর ঘাট এলাকায় মোট ২৩ শতাংশ (১৪+৯) জমি দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেন। এ সময় দখল ছাড়ার নির্দেশনা উল্লেখ করে ওই স্থানে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়।
জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে উপজেলা প্রশাসন ২৩ শতাংশ সরকারি নাল জমি দখলমুক্ত করার নির্দেশ দিলেও আশরাফ উদ্দিন তার প্রভাব খাটিয়ে জমিটি দখলে নেন। পরে তিনি সেখানে মাটি ভরাট করে বাঁশ দিয়ে বাউন্ডারি স্থাপন করেন। যদিও ওই সরকারি খাস জমির দুই পাশেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে জমি ক্রয় করেছেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি সেখানে একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার উদ্যোগের কথা বলে সরকারি জমিটি নিজের দখলে রাখেন।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে আশরাফ উদ্দিন বিভিন্নভাবে বিষয়টি ম্যানেজ করে ওই সরকারি জমি দখলে রাখার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর আবারও উপজেলা প্রশাসন জমিটি দখলমুক্ত করার নির্দেশ দিয়ে নতুন করে সাইনবোর্ড স্থাপন করে এবং দ্রুত বাউন্ডারি অপসারণের নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী আশরাফ উদ্দিন উপজেলা সহকারী ভূমি অফিসার তৌফিকুর রহমানের সকল নির্দেশনা মেনে চলতে রাজি হয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান।
এ সময় মোগরাপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আশরাফ উদ্দিন সরকারি জমি আইনগতভাবে ক্রয় না করে সুকৌশলে দখল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের প্রশ্ন—চেয়ারম্যান হওয়ার আগে যদি এভাবে সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করা হয়, তবে দায়িত্বে গেলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে? একজন জনপ্রতিনিধির নীতি ও নৈতিকতাই সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
পড়ুন: ওসির সঙ্গে বাকবিতণ্ডা: বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা মাহদীর জামিন
আর/


