২২/০২/২০২৬, ১৮:০৬ অপরাহ্ণ
27.3 C
Dhaka
২২/০২/২০২৬, ১৮:০৬ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

সৌদি আরবের সড়কে নিভে গেল প্রবাসী স্বপনের স্বপ্ন

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বপন নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকালে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। একই ঘটনায় আরও দুই বাংলাদেশি শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করে।

বিজ্ঞাপন


সন্ধ্যার পর স্বপনের মৃত্যুসংবাদ পৌঁছায় তার গ্রামের বাড়িতে। মুহূর্তেই নেমে আসে শোকের স্তব্ধতা। নিহত স্বপন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত ইয়াকুব মিয়ার ছেলে।


রমজানের ঈদে স্বপনের দেশে ফেরার কথা ছিল। দীর্ঘ প্রবাসজীবনের ক্লান্তি পেছনে ফেলে পরিবার–পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তুতিও প্রায় শেষ করেছিলেন তিনি। কিন্তু ঈদের নতুন পোশাক আর প্রিয়জনের হাসির আগেই থেমে গেল তার সব স্বপ্ন।
পরিবার সূত্র জানায়, প্রায় দশ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবের রিয়াদে যান স্বপন। সেখানে একটি ইলেকট্রিক কোম্পানিতে কাজ করতেন তিনি। প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে সৌদি সময় দুপুরে বাসায় ফেরার পথেই ঘটে দুর্ঘটনাটি।


সন্ধ্যায় মৃত্যুসংবাদ বাড়িতে পৌঁছানোর পর নুরপুর গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বপনের স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনেরা যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। চোখ ভরা পানি, অথচ মুখে কোনো শব্দ নেই—নীরব কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ।
নিহতের চাচাতো ভাই মো. আনিসুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “স্বপন খুব ভালো ছেলে ছিল। প্রায় দশ বছর আগে চাকরির জন্য সৌদি আরবে যায়। সেখানে নিজের পরিশ্রমে দাঁড়িয়ে এক ভাইকেও নিয়ে গিয়েছিল। এবার ঈদ করতে দেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু সে আর ফিরল না। তার এমন মৃত্যু আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।”


তিনি আরও বলেন, “স্বপন বিদেশে থেকেও এলাকার সবার খোঁজখবর রাখত। সবার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল আন্তরিক। কখনো ভাবিনি, এভাবে তাকে হারাতে হবে।”
দূর প্রবাসের রিয়াদের সড়কে আজ থেমে গেছে স্বপনের জীবনযাত্রা। রেখে গেছে অসমাপ্ত স্বপ্ন, অশ্রুসজল পরিবার আর এক গ্রামভর্তি শোক।

পড়ুন- বাগেরহাটে মাদক ও হত্যা মামলার আসামির হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে চোখ উপড়ে দিলো দুর্বৃত্তরা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন