জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের যোদ্ধা, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামের সৈনিক ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার মৃত্যুকে দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিসরের অপূরণীয় ক্ষতি উল্লেখ করে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী শোক দিবস পালনের সময় অন্য কোনো উৎসব বা দিবস উদযাপন করা হয় না, কারণ এটি শোকের আবহকে সম্মান জানানো এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নীতির পরিপন্থী। শোক দিবসে সকল প্রকার উৎসব ও আনন্দ উদযাপন থেকে বিরত থাকা হয় এবং সরকারি ছুটি থাকে।
সে অনুযায়ী সারা দেশের মতো মৌলভীবাজারেও সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রেখে শোক পালনের কথা ছিল। তবে শোক দিবস রেখে, জেলা প্রশাসনের ঘটা করে স্থানীয় শহীদ দিবস উদযাপিত হওয়ায় এদিন উপেক্ষিত হয় রাষ্ট্রীয় শোক। বিতর্কের সৃষ্টি হয় সচেতন মহলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি, ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে অন্যদৃশ্য। শোক পালনে দেখা দেয় অনিয়মের চিত্র।
জেলা প্রশাসন কার্যালয় ও কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হলেও মৌলভীবাজারের অধিকাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করতে দেখা যায়নি। উল্টো শোক দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রেখে উদযাপিত হয় স্থানীয় শহীদ দিবস। এদিন সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে উপস্থিত সকলকে নিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। পরে সেখানে উচ্চস্বরে মাইক স্পিকার বাজিয়ে চলে আলোচনা সভা, সবশেষ হয় মোমবাতি প্রজ্জলন।
রাষ্ট্রীয় শোক দিবসের দিন – স্থানীয় শহীদ দিবস যেভাবে ঢাক ঢোল পিটিয়ে পালিত হয়েছে তাতে ব্যাথিত হয়েছেন শহীদ ওসমান হাদীর ভক্ত-সমর্থকরা। ফেসবুকে এসব ছবি প্রকাশের পর তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের মতে, ৭১এর শহীদদের প্রতি আজীবন শ্রদ্ধা ও সম্মান থাকবে এ দেশের মানুষের, তবে রাষ্ট্রীয় শোক একটি জাতীয় দায়িত্ব, যা পালনে সরকারি ব্যক্তিদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সরকারি কর্মকর্তা জানান, শোক দিবসের বিষয়টি যথাযথভাবে তদারকি করা হয়নি, তবে এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল বলেও তারা দাবি করেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন এ বিষয়ে মুঠোফোনে বলেন, আয়োজক দাওয়াত দিয়েছেন তাই গিয়েছি, বাকিটা আমি জানিনা।
মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সাথে এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দেশ স্বাধীনের চার দিন পর রহস্যজনকভাবে পাকবাহিনীর ফেলে যাওয়া মাইন বিস্ফোরনে ২৪ জন মুক্তিযোদ্ধা মারা যান। এর পরথেকেই এই হৃদয় বিদারক ঘটনার স্মরণে মৌলভীবাজারে দিনটি স্থানীয় শহীদ দিবস হিসেবে উদযাপিত হচ্ছে। তবে এবছর সরকার ঘোষীত রাষ্ট্রীয় শোক দিবস থাকায় , এটি উদযাপনে প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। শোক দিবস পালনের বিষয়ে আগামীতে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
পড়ুন- খাগড়াছড়িতে বন্ধ ইটভাটা চালুর দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ


