টাঙ্গাইল–৫ আসনে নির্বাচনী রাজনীতিতে স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতি আগ্রহ কমে এসে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু-র পক্ষে জনসমর্থন জোরালো হচ্ছে।
এর সূচনা ঘটে গত ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর মহাসমাবেশে। লক্ষাধিক মানুষের সামনে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইলের মানুষের চাওয়া-পাওয়া ও বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরেন, যা ভোটারদের মধ্যে তাঁর প্রতি আস্থা তৈরি করে।
সমাবেশ শেষে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। টুকুর বক্তব্যে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে আস্থা রাখার কথা জানান।
এরপর নিজ নিজ সমাবেশ ও পথসভায় টুকু আবারও জনগণকে আশ্বস্ত করেন—সমাবেশে তারেক রহমানের সামনে যে দাবিগুলো তিনি তুলেছিলেন, সেগুলোই টাঙ্গাইলের মানুষের আসল চাওয়া।

বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাসী টুকু বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম নির্যাতনে অতিষ্ঠ ভোটবঞ্চিত মানুষগুলো গণতান্ত্রিক পরিবেশে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে আগ্রহী হয়ে আছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি তাঁরা গণতন্ত্রের উত্তরণ এবং সুখী সমৃদ্ধ সুন্দর চাঁদাবাজমুক্ত ইনসাফের রাষ্ট্র কায়েমের জন্য ধানের শীষকে বিজয়ী করবেন।’
এদিকে স্থানীয় দলীয় নেতৃত্বও বিষয়টি পরিষ্কার করে জানাচ্ছেন—বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী এখন আর দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর ভোটারদের বিভ্রান্তি কাটছে এবং তারা দলীয় প্রার্থীর দিকেই ঝুঁকছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমর্থন, জনসমক্ষে দাবিদাওয়া উপস্থাপন এবং বিভ্রান্তি দূর হওয়াই টাঙ্গাইল–৫ এ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলা সদরের এই আসন পেতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু চেষ্টা চালাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির আহসান হাবিব মাসুদ (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীক নিয়ে বিজয়মালা অর্জনের জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন। এই দুইয়ের মাঝে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ফরহাদ ইকবাল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
পড়ুন : অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার প্রতিবাদে রাশেদ খানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন


