একজন মানুষকে কেবল পদবী দিয়ে মাপা যায় না। তাঁকে মাপা যায় তাঁর স্বপ্ন দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে, কাজ দিয়ে। সেই মানুষটির নাম আনিসুল হক যিনি ছিলেন জনতার নগরপিতা, ছিলেন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা। আজ ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্মদিনে আমরা আবারও ফিরে যাই স্মৃতির ভুবনে।
১৯৫২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর এক গ্রামে জন্ম নেন আনিসুল হক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পড়াশোনা শেষ করে তিনি যুক্ত হন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সঙ্গে। আশির দশকের শুরুতে যখন দেশের অর্থনীতি দাঁড়াতে শিখছে, তখন থেকে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ব্যবসায়ীদের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক। বিজিএমইএ এবং এফবিসিসিআইয়ের সভাপতির দায়িত্ব সামলিয়ে ব্যবসায় খাতের উন্নয়নে রেখেছিলেন অমলিন ছাপ।

কিন্তু আনিসুল হক শুধু একজন সফল ব্যবসায়ীই ছিলেন না। ছিলেন এক জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপকও। আশি-নব্বইয়ের দশকে টেলিভিশনের পর্দায় তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি মুগ্ধ করেছিল কোটি দর্শককে। ‘আনন্দমেলা’, ‘অন্তরালে’, ‘জলসা’ কিংবা ‘সবিনয়ে জানতে চাই’ প্রতিটি অনুষ্ঠানেই তিনি ছিলেন সহজ-সাবলীল, ছিলেন সবার আপনজন।
২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়ে আনিসুল হক যেন নতুন এক স্বপ্ন দেখালেন নগরবাসীকে। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষ যদি এক হয়, তাহলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। যানজটমুক্ত, সবুজ ঢাকা, নারী ও শিশুবান্ধব নগর এই ছিল তাঁর অঙ্গীকার। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই শুরু করেন অবকাঠামো সংস্কার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও আধুনিক সেবার উদ্যোগ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ছিল অটল, সাহসী।

দুঃখজনকভাবে, সেই যাত্রা শেষ হলো অকালেই। মাত্র আড়াই বছরের মাথায় ২০১৭ সালের নভেম্বরে আনিসুল হক পাড়ি জমালেন না-ফেরার দেশে। অপূর্ণ রয়ে গেল তাঁর অনেক স্বপ্ন। তবে নগরবাসীর মনে তিনি থেকে গেলেন একজন স্বপ্নবাজ নায়ক হয়ে। আজও যখন কেউ ঢাকা শহরের কথা বলেন, তখন ভেসে ওঠে তাঁর হাসিমাখা মুখ, শুনতে পাওয়া যায় তাঁর দৃঢ় কণ্ঠস্বর “মানুষ চাইলে সব সম্ভব।”
আনিসুল হক কেবল একজন মেয়র ছিলেন না। তিনি ছিলেন আশা দেখানো মানুষ, ছিলেন একজন ‘সুপারম্যান’, যিনি স্বপ্ন দেখতেন একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ঢাকা শহরের। সেই স্বপ্ন হয়তো এখনো পূর্ণ হয়নি, কিন্তু তাঁর অনুপ্রেরণার আলো ছড়িয়ে আছে শহরের প্রতিটি ইট-কংক্রিটে, প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে।
আজ জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করে শুধু একটাই প্রার্থনা-ভালো থাকুন প্রিয় আনিসুল হক। আপনার স্বপ্নই আমাদের পথচলার আলো হয়ে থাকবে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।



“Hat off”