রাজধানী ছেড়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ির পথে ছুটছেন মানুষ। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। নেই চিরচেনা ভিড় বা ভোগান্তি—ফলে স্বস্তিতেই দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ বাড়ি ফিরছেন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সদরঘাটে লঞ্চ টার্মিনালে দেখা যায়, যাত্রীরা নির্বিঘ্নে লঞ্চে উঠছেন এবং স্বাচ্ছন্দ্যে যাত্রা শুরু করছেন। ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও ছিল চোখে পড়ার মতো। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা বিভিন্নভাবে সহায়তা দিচ্ছেন।
প্রতিবার ঈদে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ থাকলেও এবার তেমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লঞ্চ মালিকরা জানিয়েছেন, সরকারের অনুরোধে তারা ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কম ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করছেন।
বরিশালগামী ‘সুন্দরবন-১০’ লঞ্চের যাত্রী রাশিদুল মিয়া বলেন, “এবারের সদরঘাটের চিত্রটা আগের থেকে আলাদা। বাড়তি ভাড়া নেই, অনেক স্বস্তিতে পরিবার নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি।”
অন্যদিকে, এমভি ‘সুরভী-৭’ লঞ্চের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুজ্জামান সোহেল বলেন, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম নেওয়া হচ্ছে। তবে কিছু জ্বালানি সংকট রয়েছে, আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।”
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে নৌপথে প্রায় ১৬৬ থেকে ১৭০টি লঞ্চ চলাচলের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি রুটের মধ্যে ৩৩টিতে লঞ্চ চলাচল করছে। প্রতিদিন গড়ে ৫৫ থেকে ৬০টি লঞ্চ বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে পন্টুন এলাকা ক্যানভাসার ও হকারমুক্ত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও সরেজমিনে কিছু হকারকে ফল, পানি ও নাস্তা বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এছাড়া যাত্রীচাপ সামাল দিতে সদরঘাটে অতিরিক্ত দুটি ঘাট চালু করা হয়েছে। যাত্রীদের স্বস্তি বাড়াতে লঞ্চ মালিকরা ভাড়া প্রায় ১০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সব মিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রায় সদরঘাটে স্বস্তির চিত্র ফুটে উঠেছে, যা যাত্রীদের মাঝে বাড়তি আনন্দ এনে দিয়েছে।
পড়ুন:বৈশাখী টেলিভিশনের ঈদ আয়োজনে ২৭ নাটক ৭ সিনেমা
দেখুন:ঝাড়ফুঁকের নামে ৪৩ বছর ধরে প্রতারণা করেন তিনি |
ইমি/


