বিজ্ঞাপন

স্বাধীনতার চেতনায় ঐক্যের আহ্বান, জুলাই সনদ নিয়ে আন্দোলনের হুমকী ষড়যন্ত্র নামান্তর : এমরান সালেহ প্রিন্স

মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এক বিশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে । মিছিলের নেতৃত্ব দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব , ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

বিজ্ঞাপন


আজ বিকেলে হালুয়াঘাট পৌর শহরের ডিএস মাদরাসা মাঠে মিছিল পূর্ব সমাবেশে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, “জুলাই সনদ নিয়ে জামায়াত-এনসিপি জোটের মাঠ গরম করার চেষ্টা কখনোই সফল হবে না, বরং তা বুমেরাং হবে। বিএনপি জুলাই সনদকে অস্বিকার বা অবজ্ঞা করছে না , করবেও না । প্রথম থেকেই অমরা বলে আসছি —বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ আমরা ধারণ করি এবং বাস্তবায়ন করব। তাই এটি নিয়ে অপপ্রচার ও মাঠ গরম করার চেষ্টা মূলত ষড়যন্ত্রেরই অংশ।জামায়তের নেতার বলছেন , আন্দোলনের পথ নাকি তাদের চেনা আছে । আমাদেরও ষড়যন্ত্র মোকাবেলার পথভালোভাবেই জানা আছে।”

তিনি বলেন, “অর্থনৈতিক চাপ ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপি সরকার গঠনের দেড় মাসের মধ্যে একের পর এক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন । এতে জামায়াত-এনসিপি জোটসহ স্বার্থান্বেষী মহলের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে । নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে, যা অতীতের আওয়ামী অপকৌশলের পুনরাবৃত্তি।”


স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নিয়ে জামায়তের আমীরের বক্তব্যের সমালোচনর জবাবে প্রিন্স বলেন, “সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগকে অসাংবিধানিক বলা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যে বিধানের আওতায় ডক্টর ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার ফ্যাসিস্ট মেয়র-চেয়ারম্যানদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছিল, একই বিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারও নিয়োগ দিয়েছে। এটি শতভাগ বৈধ।বরং এই নিয়োগকে অবৈধ বলা আইনের প্রতি অবজ্ঞার শামিল ।


তিনি আরও বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ায় সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ স্তিমিত ও কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল , জনগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। এই প্রসাশক নিয়োগ নির্জীব হয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর ও গণমুখী করে জনগণকে সেবা ডেয়ার উদ্যোগ । প্রিন্স জানান, “জনগণের সেবাকে কার্যকর করতে খুব শিগগিরই স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ।”

সমাবেশে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল বাঙালি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম গণহত্যা ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
তিনি বলেন, “২৫ মার্চের কালরাতে বর্বরোচিত হামলার পর জাতি যখন দিকনির্দেশনার অপেক্ষায়, তখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সেনানিবাসে উই রিভল্ট বলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং পরবর্তিতে
কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করেন। তার সেই সাহসী আহ্বান মুক্তিযুদ্ধকে সশস্ত্র প্রতিরোধে রূপ দেয় এবং দেশবাসীকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করে।”
প্রিন্স বলেন, স্বাধীনতার মূল চেতনা ছিল একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পরও সেই স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।


তিনি অভিযোগ করে বলেন, “একাত্তরে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও তারা জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি। এখন আবার তারাই স্বাধীনতার চেতনার কথা বলে জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। স্বাধীনতার চেতনা, আকাঙ্ক্ষা, মূল্যবোধ বা স্বপ্নের কথা তাদের মুখে মানায় না। তারা একাত্তরে যেমন জাতির সাথে বেঈমানি করেছিল, এখনও তেমনি প্রতারণা করে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “দুঃখজনক হলেও সত্য, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহকর্মী পরিচয়ধারী কেউ কেউ আজ স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করে নতুন নতুন বয়ান দিচ্ছেন, ।”


তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।”

আজ স্বাধীনতা দিবসে হালুয়াঘাটে সরকারী অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আমজাদ আলীর বক্তব্যের সময় স্বতন্ত্র এমপির লোকজনদের বাধার প্রেক্ষিতে মুক্তিযোদ্ধাদের উক্ত অনুষ্ঠান বর্জনের কথা উল্লেখ করে তিনি , এই ন্যাক্কার জনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান । তিনি বলেন , উক্ত অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপিকে অবজ্ঞা ও অবহেলা করা হয়েছে ।
সমাবেশে উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বের হয়ে পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উত্তর বাজারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয় । এখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল , পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ , উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আমজাদ আলী , সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অব্দুল হামিদ , উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীব , উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলী আশরাফ , আবদুল হাই , কাজী ফরিদ আহমেদ পলাশ , সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান , চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান , সাবেক চেয়ারম্যান মোনায়েম হোসেন খান , বিএনপি নেতা ইঞ্জিনার ইঊনূস আলী খান , রমজান আলী , আবদুল জলিল , রফিকুল ইসলাম , সায়েদুর রহমান , আব্দুস সাত্তার প্র্রমুখ বক্তব্য রাখেন ।

বক্তারা বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
এর আগে আজ সকালে এমরান সালেহ প্রিন্স হালুয়াঘাট শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে পুষমাল্য অর্পণ করেন । এসময় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন ।

পড়ুন- বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবজনক অধ্যায় স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী

দেখুন- হেলিকপ্টারে নতুন বউ এনে মায়ের স্বপ্নপূরণ করলেন প্রবাসী

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন