মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিবৃতিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় আগামী ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালনের আহ্বান জানানো হয়।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তদানীন্তন শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী জনতা। মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রত্যাশা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার। ক্ষুধা-দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও দুঃশাসনমুক্ত একটি দেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বস্তরের জনতা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। লাখো মানুষের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। তবে স্বাধীনতার ৫৫ বছরে প্রাপ্তি হিসাব করলে দেখা যায়, দেশের মানুষের বহু প্রত্যাশা এখনও পূরণ হয়নি।
জামায়াত আমির বলেন, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার জুলাই গণআন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তি লাভ করেছে মানুষ। দেশে ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। দেশবাসীর প্রত্যাশা এমন পরিস্থিতিতে কেউ আর নতুন করে ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার দুঃসাহস দেখাবে না। দেশের মানুষ ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে চলাফেরা করতে পারবে, কথা বলতে পারবে। মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ ও বৈষম্য থাকবে না। নাগরিকরা জানমাল ও ইজ্জত-আব্রুর নিরাপত্তা ভোগ করবে। দেশ ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিমুক্ত হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ বাস্তবায়নে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছে এবং গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ নাগরিক ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ম্যান্ডেট দিয়েছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো টালবাহানা জনগণ মেনে নেবে না। অবিলম্বে সরকারকে জুলাই জাতীয় সনদ দ্রুত বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
পড়ুন: যুদ্ধ বন্ধে ইরানের কঠোর ৫ শর্ত
আর/


