শনিবার সকাল ১১ টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন হল রুমে স্বামী ও শুশুরকে এলোপাথারি কোপানোয় সুষ্ঠু বিচারের জন্য আর্নিকা সাথী সংবাদ সম্মেলন করেন এ সময় তিনি উল্লেখ্য করে বলেন
আমি মোছাঃ আর্নিকা সাথী (২২), পিতা-মোঃ আনোয়ার হোসেন, স্বামী- মো: রাসেল দিনাজপুর সদর উপজেলা ৫নং শশরা ইউনিয়ন,পাঁচবাড়ি জপেয়া মোল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা
আমি বাদীনি হয়ে নিম্ন বর্ণিত আসামীগনের বিরুদ্ধে দিনাজপুর কোতয়ালী থানার মামলা নং-৩৯/১১৬, তাং-১৮/০২/২০২৬ ইং ধারা-১৪৩/৪৪৭/৩৪১/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৫৪/৫০৬(২)/১১৪ পেনাল কোড-১৮৬০।
এজাহার নামীয় আসামী ১। মোঃ জাহাঙ্গীর (৪৫), ২। মোঃ জিয়াউর রহমান (৪০), উভয় পিতা-মোঃ আবুল কালাম আজাদ, ৩। মোঃ আবুল কালাম আজাদ (৭০), পিতা-মৃত সাকের আলী, ৪। মোঃ মমিনুল ইসলাম (৫০), ৫। মেঃ মকছেদুল ইসলাম (৫৫), উভয় পিতা-মৃত সাকের আলী, সর্ব সাং-জপেয়া মোল্লাপাড়া, থানা-কোতয়ালী, জেলা-দিনাজপুর।
গত ইং ১৭/০২/২০২৬ তারিখ, বিকাল অনুমান ০৪.০০ ঘটিকার সময় দিনাজপুর জেলার কোতয়ালী থানাধীন ৫নং শশরা ইউনিয়ন জপেয়া মৌজার তুলশী পুকুরস্থ আমার শশুর মোঃ আলাউদ্দিন, পিতা-মৃত বাহার উদ্দীন, সাং-পাঁচবাড়ী জপেয়া মোল্লাপাড়া, ৫নং শশরা ইউনিয়ন, থানা-কোতয়ালী, জেলা-দিনাজপুর এর মালিকনাধীন আবাদী জমিতে ফসল রোপনের জন্য আমি, আমার শুশুর ও আমার স্বামী মোঃ রাসেল পারভেজসহ জমি প্রস্তুত করিতে ছিলো । আমরা জমিতে কাজ করাকালে একই তারিখ বিকাল অনুমান ০৫.০০ ঘটিকার সময় উপরোক্ত আসামীগন পরস্পর যোগসাজোস করিয়া বে-আইনী জনতায় দলবদ্ধ হইয়া হাতে ধারালো হাসুয়া, দা, ছোরা, কোদাল, লোহার রড, লাঠিসোঠা সহ মারাত্মক অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হইয়া আমাদের মালিকনাধীন জমির ভিতর অনধিকার প্রবেশ করিয়া আমাদেরকে চারিদিক থেকে ঘিরে ধরে অবৈধভাবে আটক করে। তখন আসামীগন আমাদের কাজে বাধা প্রদান করিয়া অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করাসহ খুন জখম করার হুমকী ও বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি প্রদান করে। তখন আমার স্বামী মোঃ রাসেল গালিগালাজ করিতে আসামীদের নিষেধ করিলে ৩নং আসামী মোঃ আবুল কালাম আজাদ অন্যান্য আসামীদের হুকুম দিয়া বলে যে, এই শালা বেশী বাড়িয়া গিয়াছে, শালাকে মারিয়া জীবনে শেষ করে দেও। এই হুকুম পাওয়া মাত্রই ১নং আসামী মোঃ জাহাঙ্গীর তাহার হাতে থাকা কোদালের ধারালো অংশ দিয়ে আমার স্বামীকে হত্যা,র উদ্দেশ্যে আমার স্বামীর মাথার ডান পার্শ্বে স্বজোরে কোপ মারিয়া গুরুতর রক্তাক্ত কাটা জখম কর (যাহাতে পরবর্তীতে ১১টি সেলাই দেওয়া হয়)। ১নং আসামী তাহার হাতের উক্ত কোদালের ধারালো অংশ দিয়া আমার স্বামীকে হত্যা নিশ্চিত করার জন্য পুনরায় আমার স্বামীর মাথার মাঝ বরাবরে কোপ মারিয়া উক্ত জখমের পাশেই আরোও একটি গুরুতর রক্তাক্ত কাটা জখম করে (যাহাতে পরবর্তীতে ৭টি সেলাই দেওয়া হয়)। আমার স্বামী জখম প্রাপ্ত হইয়া চিৎকার দিয়া মাটিতে পড়িয়া যায়। আমার স্বামীকে হ,ত্যা নিশ্চিত করার জন্য ২নং আসামী মোঃ জিয়াউর রহমান তাহার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়া আমার স্বামী মাথার মধ্যভাগে স্বজোরে কোপ মারিয়া গুরুত্বর রক্তাক্ত কাটা জখম করে (যাহাতে পরবর্তীতে ৪টি সেলাই দেওয়া হয়)। ৪নং আসামী মোঃ মমিনুল ইসলাম তাহার হাতে থাকা কোদালের ঘাড়া দিয়া আমার স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার স্বামীর ডান হাতের বাহুতে স্বজোরে আঘাত করিয়া হাড় ভাঙ্গা গুরতর জখম করে। ৫নং আসামী মোঃ মকছেদুল ইসলাম তাহার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে আমার স্বামীকে চিরতরে পঙ্গু করার উদ্দেশ্যে আমার স্বামীর দুই পায়ে, বুকে পিঠে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরী মারপিট করে গুরুতর জখম করে। তখন আমার শ্বশুর মোঃ আলাউদ্দিন আমার স্বামীকে রক্ষা করার চেষ্টা করিলে ২নং আসামী মেঃ জিয়াউর রহমান তাহার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে আমার শ্বশুর এর মাথার ডান পার্শ্বে স্বজোরে কোপ মারিয়া গুরুত্বর রক্তা,ক্ত কাটা জখম করে (যাহাতে পরবর্তীতে ৫টি সেলাই দেওয়া হয়)। ২নং আসমী অহার হাতের উক্ত ধারালো দা দিয়া আমার শ্বশুরকে হত্যা নিশ্চিত করার জন্য পুনরায় আমার শ্বশুরের মাথার ডান পার্শ্বে কোপ মারিয়া উক্ত জখমের পার্শ্বেই আরোও একটি গুরুত্বর রক্তাক্ত কাটা জখম করে (যাহাতে পরবর্তীতে ৩টি সেলাই দেওয়া হয়)। আমার স্বামী ও শ্বশুর মাটিতে পড়িয়া ছটফট ও দাপাদাপি করিতে থাকা কালে ৩নং আসামী মোঃ আবুল কালাম আজাদ তাহার হাতে থাকা লাঠি দিয়া আমার শ্বশুরকে এলোপাথাড়ী ভাবে মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। অজ্ঞাতানামা আসামীগন আমার স্বামী ও শ্বশুরকে কিলঘুষি মারপিট করে। তখন আমি, আমার স্বামী ও শ্বশুরকে রক্ষার চেষ্টা করলে ১ ও ২নং আসামীদ্বয় অসৎ উদ্দেশ্যে আমার মাথার চুলের মুঠি ও পরিহিত স্যালোয়ার, কামিজ এবং ওড়না ধরে টানা হিচড়ে করে বিবস্ত্র করতঃ শ্লীলতাহানী ঘটায়। একপর্যায়ে ১নং, ২নং ৩ ৪নং আসামীগন আমার স্বামীকে জমির মাঝখান থেকে জোর পূর্বক তুলিয়া নিয়া পাশের জমির আইলের উপর স্বজোরে আছাড় দিয়া আমর স্বামীর পিঠে ও কোমড়ে আঘাত করিয়া গুরুত্বর জখম করে।
এজাহার নামীয় ৩নং আসামী মোঃ আবুল কালাম আজাদ বিজ্ঞ আদালত হইতে জামিন পাইয়া সকল এজাহার নামীয় আসামীগন সহ বর্তমানে সহযোগী আসামী ৩নং আসামীর অপর ছেলে মোঃ জাহিদুল ইসলাম এবং ৫নং আসামী মোঃ মকছেদুল ইসলাম এর ছেলে আসামী মোঃ মাসুদ রানাগন সহ পুনরায় আমাদের পারিবারের সদস্যদেরকে বিজ্ঞ আদালত হইতে মামলা তুলিয়া নেওয়ার হুমকী প্রদান করে। মামলা তুলিয়া না নিলে উক্ত আসামীগন আমাদেরকে রাস্তাঘাটে একাকী পাইলে মেরে লা,শ গু,ম করিয়া ফেলিবে বলে এবং বাড়ীতে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়া ফেলার হুমকী প্রদান করে। উক্ত আসামীগন মামলার সাক্ষীদেরকে মামলায় সাক্ষী দিতে নিষেধ করে। মামলায় সাক্ষী দিলে তাহাদেরও মারপিট করিবে এবং বাড়ী ঘরে আ,গুন দিয়ে পুড়িয়া ফেলার হুমকী প্রদান করে। উক্ত আসামীগন আমাদের নামে বিজ্ঞ আদালতে একটি মিথ্যা মামলা আনয়ন করেন। আমি আমার স্বামী ও শশুর-শ্বাশুড়ী এবং আমার এক মেয়ে নিয়ে বর্তমানে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগিতেছি।
উক্ত আসামীগনেরা আমার পরিবারের সদস্যদেরকে মারার জন্য ধারালো হাসুয়া, সামুরাই, ছোরা ইত্যাদি নিয়ে বাড়ীর সামনে ‘ঘোরাফেরা করিতেছে। আমাদের পরিবারের সদস্যদেরকে একাকী পেলেই মা,র্ডার সহ হ,ত্যা করার জন্য খুজে বেড়াইতেছে।
আমার স্বামী ও শশুরকে নির্মমভাবে হত্যা,র উদ্দেশ্যে গুরুত্বর র,ক্তা,ক্ত জখম করায় উক্ত মামলার এজাহার নামীয় আসামীদেরকে অতি শর্তে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ প্রশাসনেকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি ।
পড়ুন:গাইবান্ধায় জ্বালানি তেল সংকট, ফিলিং স্টেশনগুলোতে উপচে পড়া ভিড় |
দেখুন:
ইমি/


