দেশের অর্থনীতির অন্যতম ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত হাওরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের বৈষম্য নিরসন ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পৃথক ‘হাওর বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠনের প্রস্তাব করেছেন কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমীপে এক ফেইসবুক পোস্টের মাধ্যমে তিনি অত্যন্ত যৌক্তিক ও সময়োপযোগী দাবি উত্থাপন করেন।
সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবুর এই প্রস্তাবনাটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ হাওরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন ও গণ-সমর্থন সৃষ্টি করেছে।
প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া ওই বার্তায় তিনি বলেন, “শ্রদ্ধেয় দেশনায়ক, আপনার ঘোষিত ‘আধুনিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ’ গড়ার রূপরেখা আজ কোটি মানুষের মনে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে। সেই আশার প্রতিফলন হিসেবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম উৎস হাওরাঞ্চলের সামগ্রিক স্বার্থে একটি স্বতন্ত্র প্রশাসনিক কাঠামো বা পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন এখন সময়ের দাবি।
প্রস্তাবনায় যেসব সংকটের কথা তুলে ধরা হয়েছে:
জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্ব: দেশের দিগন্তজোড়া বোরো ধানের ফলন এবং অভ্যন্তরীণ মৎস্য সম্পদের বিশাল একটি অংশ জোগান দেয় এই হাওর। দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় এই জনপদের অবদান অনস্বীকার্য।
স্থায়ী সমাধানের অভাব: প্রতিবছর আগাম বন্যা এবং ফসল রক্ষা বাঁধের অব্যবস্থাপনায় হাওরবাসী নিঃস্ব হয়। বিচ্ছিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা দিয়ে এই বিশাল ভূখণ্ডের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
প্রশাসনিক বৈষম্য: পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় থাকলেও, কৃষিজাত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাওর অঞ্চলের জন্য আজও কোনো স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় নেই। ফলে এই অঞ্চলটি বারবার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
পৃথক মন্ত্রণালয় গঠিত হলে যেসব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব:
১. বাজিতপুর-লাখাই সড়কটিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ-সিলেট সংযোগকারী একটি কার্যকর ‘বাইপাস’ হিসেবে রূপান্তর করে আধুনিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরি করা।
২. ফসল রক্ষা বাঁধের দুর্নীতিমুক্ত, বৈজ্ঞানিক ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা।
৩. হাওরাঞ্চলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বিশেষায়িত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন।
৪. কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
বার্তায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, হাওরাঞ্চলের মাটি ও মানুষের নেতা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান দীর্ঘকাল ধরে এই অঞ্চলের অধিকার আদায়ে সোচ্চার। হাওরবাসী তাঁকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়।
সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এই অবহেলিত জনপদ তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে এবং পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন হবে হাওরবাসীর জন্য ইতিহাসের এক শ্রেষ্ঠ উপহার।
পড়ুন- পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টায় সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাত বছর আজ


