মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার অন্তর্গত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ হাওর হাকালুকি হাওর এলাকায় চলতি মৌসুমে ব্যাপকভাবে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। দিগন্তজোড়া সবুজ ধানক্ষেত কৃষকদের আশা জাগালেও পানির তীব্র সংকটে অনেক জমিতে ধান ঝলসে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার জয়চন্ডি, ভাটেরা,ভুকশিমইলসহ হাওরপাড়ের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, খাল ও পুকুরের পানি প্রায় শুকিয়ে গেছে। সেচের জন্য পর্যাপ্ত জলাধার না থাকায় কৃষকরা বিকল্প ব্যবস্থার চেষ্টা করলেও তা পর্যাপ্ত নয়। হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন বড় কোনো প্রাকৃতিক জলধারা চোখে পড়ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জয়চন্ডি এলাকার এক কৃষক জানান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর আমলে হাওরাঞ্চলের পানি নিষ্কাশন ও সংরক্ষণে খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর সেই কাজ আর সম্পূর্ণ হয়নি। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, অতীতে শুরু হওয়া খাল খননের অসমাপ্ত কাজ শেষ করা হলে হাওর এলাকার মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
কৃষকদের দাবি, দ্রুত খাল পুনঃখনন, জলাধার সংরক্ষণ এবং টেকসই সেচব্যবস্থা গড়ে তোলা না হলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এতে শুধু স্থানীয় কৃষকই নয়, জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুঠোফোনে জানান, নতুন সরকারের কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং সেচসংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে কৃষকরা স্বস্তি পাবেন।
হাওরাঞ্চলের কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য খাল পুনঃখননের পাশাপাশি পানি সংরক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরি। তা না হলে প্রতিবছরই শুষ্ক মৌসুমে একই সংকটের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
পড়ুন- বিরোধীদল থেকে ডেপুটি স্পিকার নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেখুন- ইরান হাল ছাড়বে না; যু/দ্ধে প্রবেশ করেছে হি/জ/বু/ল্লা/হ


