চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চিকন্দন্ডী ইউনিয়নের আমান বাজার এলাকার হাজী ইসহাক কলোনি থেকে নিখোঁজের তিনদিন পর আফরিন (১১) নামে এক শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ফয়সাল নামে এক যুবককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনদিন আগে হাজী ইসহাক কলোনির ভাড়া বাসা থেকে নিখোঁজ হয় আফরিন। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। শনিবার আমান বাজারের পূর্ব পাশে অবস্থিত একটি তুলার গুদামে তার অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।
স্বজনদের অভিযোগ, ফয়সাল নামে এক যুবক কৌশলে আফরিনকে অপহরণ করে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে পাশবিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ বা আঘাত করে হত্যা করা হয়। মরদেহে পচন ধরার কারণে ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ হওয়ার দিনই তাকে হত্যা করা হয়েছিল।
নিহত আফরিনের বাড়ি কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলায়। তারা দীর্ঘদিন ধরে হাজী ইসহাক কলোনির একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
অভিযুক্ত ফয়সালের বাড়ি বরিশাল জেলায় বলে জানা গেছে। তিনি ওই কলোনির তদারকি এবং একটি তুলার কারখানায় কাজ করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার দিনের বেলায় ফয়সাল আফরিনকে কৌশলে একটি তুলার গুদামে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ফয়সাল একা বের হয়ে এলেও আফরিন আর বাইরে আসেনি। এ থেকেই হত্যার প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসহাক কলোনি ও আমান বাজার এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। জানাজায় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতা দ্রুত অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশু নিরাপত্তা জোরদারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
হাটহাজারী থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পড়ুন : নেত্রকোনায় বালুখেকোদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান, ট্রাক চালক শ্রীঘরে


