২৬/০২/২০২৬, ১৮:৩২ অপরাহ্ণ
26 C
Dhaka
২৬/০২/২০২৬, ১৮:৩২ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

হাত হারানো নাঈমকে ক্ষতিপূরণ না দেয়ায় ওয়ার্কশপ মালিককে হাজিরের নির্দেশ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে হাত হারানো শিশু নাঈম হাসান নাহিদের নামে ৩০ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে দেওয়া সংক্রান্ত রায় প্রতিপালন না করায় ওয়ার্কশপমালিককে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে হাজিরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আগামী ২১ এপ্রিল তাকে হাজির করতে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শিশুটিকে ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে রায় প্রতিপালন না করায় আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আপিল বিভাগ সোমবার এই আদেশ দেন। আদালতে শিশুটির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ওমর ফারুক। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।

নাঈমের হাত হারানোর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তার বাবা মো. নিয়ামুল হোসেন আনোয়ার হাইকোর্টে রিট করেন।

সে রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। একপর্যায়ে রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে হাইকোর্ট শিশু নাঈমের নামে ১৫ লাখ টাকা করে ১০ বছর মেয়াদে দুটি ফিক্সড ডিপোজিট করে দিতে ওয়ার্কশপের মালিক ইকবাল হোসেন ইয়াকুবকে নির্দেশ দেন। প্রথমটি চলতি বছরের এপ্রিলে ও দ্বিতীয়টি ডিসেম্বরের মধ্যে করতে বলা হয়। একই সঙ্গে নাঈমের পড়ালেখার খরচ হিসেবে প্রতি মাসে সাত হাজার টাকা করে তার ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে মালিকপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ওয়ার্কশপমালিক ইয়াকুব হোসেন লিভ টু আপিল করেন। তবে এই লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ফলে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে।

‘ভৈরবে শিশুশ্রমের করুণ পরিণতি’ শিরোনামে প্রকাশিত যে প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করা হয় সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, নাঈমের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রামে। তারা বাবা নিয়ামুল হোসেন আনোয়ার পেশায় জুতা ব্যবসায়ী। কর্মসূত্রে পরিবার নিয়ে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাস করছিলেন তিনি। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে আনোয়ার কর্মহীন হয়ে পড়েন। সংসারের চাপ সামলাতে নাঈমকে তার মা–বাবা ভৈরবের একটি ওয়ার্কশপে কাজে দেন। ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে নাঈমের ডান হাত ড্রিল মেশিনে ঢুকে যায়। পরে শিশুটিকে বাঁচাতে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনুই থেকে তার ডান হাত বিচ্ছিন্ন করেন। সে সময় নাঈমের পরিবার ভৈরবের কমলপুর এলাকার নূর বিল্ডিং নামের একটি ভবনে ভাড়া থাকত। ভবনটির মালিক এলাকার ইকবাল হোসেন ইয়াকুব।

পড়ুন:ক্ষমতা হারানো আসাদের কাছে বিচ্ছেদ চাইছেন স্ত্রী আসমা

দেখুন:দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছে এতেই খুশি হাত হারানো আতিক | 

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন