“দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়ব, তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ব”- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নেত্রকোনায় পালিত হয়েছে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক এক বিশেষ সচেতনতামূলক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সার্বিক সহযোগিতায় এ মহড়ার আয়োজন করা হয়। ইমার্জেন্সি পরিস্থিতিতে কীভাবে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন, নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) সুখময় সরকার। তিনি মহড়াটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “এই মহড়া কেবল উপভোগের বিষয় নয়, এটি আমাদের জন্য একটি বড় শিক্ষা। পারিবারিকভাবে প্রতিটি বাড়িতেই দুর্যোগ প্রস্তুতির বেসিক জ্ঞানগুলো থাকা উচিত। এই শিক্ষাগুলো কাজে লাগিয়ে আমরা যেকোনো ক্রাইসিসে দুর্যোগকে প্রশমিত করতে পারি।”
পবিত্র রমজান মাসে এমন আয়োজনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ায় তিনি ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স, রোভার স্কাউটস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। এ কার্যক্রম ভবিষ্যতে তৃণমূল পর্যায়ে সম্প্রসারণের আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ও নেত্রকোনা পৌরসভার প্রশাসক মো. আরিফুল ইসলাম সরদার দুর্যোগ পূর্ববর্তী প্রস্তুতির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “আগুন কখন লাগবে তা আমরা কেউই বলতে পারি না, তাই প্রস্তুতি গ্রহণ করাটা অত্যন্ত আবশ্যক। প্রতিটি বাসা-বাড়ি ও অফিসে ফায়ার এক্সটিংগুইশার (অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র) রাখা এবং এর ব্যবহার বিধি জানা সবার জন্য জরুরি।”
তিনি অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে, এমন সচেতনতামূলক বার্তা গণমাধ্যমের সাহায্যে তৃণমূলের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চৌকস দল মহড়ায় বিভিন্ন উদ্ধার কৌশল ও অগ্নিনির্বাপণ পদ্ধতি সরাসরি প্রদর্শন করেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- কীভাবে ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, তা হাতে-কলমে শেখানো হয়। রান্নার কাজে বা ড্রামে আগুন লাগলে আতঙ্কিত না হয়ে ভেজা ছালা, বস্তা বা কম্বল দিয়ে কীভাবে আগুন নিভিয়ে ফেলা যায়। ফায়ার প্রুফ স্যুট পরিধান করে জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডের ভেতর থেকে আটকে পড়া ব্যক্তিকে কীভাবে নিরাপদে উদ্ধার করতে হয়, তার বাস্তব ডেমোনস্ট্রেশন দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিস কর্মী, সাংবাদিক, রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটসের সদস্যসহ স্থানীয় জনসাধারণ উপস্থিত থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ মহড়া উপভোগ করেন ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
পড়ুন:মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দেশে দাম বেড়েছে ডলারের
দেখুন:নওগাঁ নির্বাচনী জনসভায় যা বললেন জামায়াত আমির
ইমি/


