32.3 C
Dhaka
০৭/০৩/২০২৬, ১৩:৪৭ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

হামাসকে নিয়ে নেতানিয়াহুর নতুন বার্তা

আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রে এখন ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট। গাজা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে। হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে গাজার যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার পর হামাসকে সম্পূর্ণ নির্মূল করার অঙ্গীকার দিয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

বিজ্ঞাপন

গাজা ইস্যু সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান নেতানিয়াহু। দেখা করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে। নেতানিয়াহু জানান, তাদের আলোচনায় উঠে এসেছে যুদ্ধবিরতি, বন্দি মুক্তি এবং হামাসকে নির্মূল করার অঙ্গীকার।

যুক্তরাষ্ট্র সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে টানা দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে গাজায় আটক ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি এবং যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা। বৈঠকের পর সামাজিক মাধ্যম এক্স বা সাবেক টুইটার এ দেওয়া বার্তায় নেতানিয়াহু জানান, আলোচনায় তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল গাজায় আটক ইসরায়েলি নাগরিকদের মুক্ত করা। পাশাপাশি তিনি হামাসের সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামো ‘সম্পূর্ণ নির্মূলের’ অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন।

এদিকে ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানান, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সমঝোতার পথে যে চারটি বড় বাধা ছিল, সেগুলোর সংখ্যা এখন কমে মাত্র একটিতে এসেছে। উইটকফের মতে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে এবং এর আওতায় মুক্তি পাবে জীবিত ১০ জন ও মৃত ৯ জন ইসরায়েলি বন্দি।

যুদ্ধবিরতির আলোচনার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে কাতার। দেশটি ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনার মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব পালন করছে। নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর আগে কাতারের একটি প্রতিনিধি দল হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে বলে জানায় সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

নেতানিয়াহু জানান, “আমরা এখনো গাজায় আমাদের মিশন শেষ করিনি। আমাদের অবশ্যই সব বন্দিকে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং হামাসের সামরিক ও সরকারিভাবে পরিচালিত কাঠামোকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করতে হবে।”

২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের আকস্মিক হামলায় ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে প্রাণ হারায় প্রায় ১,২০০ মানুষ এবং বন্দি করা হয় ২৫১ জনকে। ধারণা করা হয়, ৫০ জন বন্দি এখনো গাজায় অবস্থান করছে, যাদের মধ্যে ২০ জন জীবিত আছেন।

এর জবাবে ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান চালায়, যার ফলে মারা যান অসংখ্য গাজাবাসী। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন ৫৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজার অধিকাংশ এলাকা। বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে গাজার পুরো জনসংখ্যা। জাতিসংঘ বলছে, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

অন্যদিকে হামাস স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ না হলে তারা আর কোনো বন্দি মুক্তি দেবে না। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, বন্দিদের মুক্তি এবং হামাসকে ধ্বংস না করা পর্যন্ত যুদ্ধ থামানো হবে না।

নেতানিয়াহু ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কখনো এত ঘনিষ্ঠ ছিল না। এদিকে ট্রাম্পও ইসরায়েলের প্রতি তার সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার প্রসিকিউটরদের সমালোচনা করে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছেন। গাজা যুদ্ধের ভয়াবহতা এখনও তুঙ্গেই রয়েছে। নেতানিয়াহু-ট্রাম্প বৈঠক হয়তো শান্তির পথে কিছুটা আলোর দিশা দেখাচ্ছে, তবে চূড়ান্ত সমাধান এখনো বহু দূরে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।

পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাদক মামলায় স্বামী-স্ত্রীর ১০ বছরের কারাদণ্ড

দেখুন: ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসী অভিযানের বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনের বিক্ষোভ |

ইম/



বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন