বিজ্ঞাপন

হাম হলে করণীয় কী, জেনে নিন

হাম আবারও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসজনিত রোগ প্রতিরোধযোগ্য। কিন্তু টিকাদানের ঘাটতি, অপুষ্টি এবং অসচেতনতার কারণে এটি মহামারী আকার ধারণ করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সঠিক পুষ্টিকর খাবার + টিকাদান + পরিচ্ছন্নতা = শিশুর সুরক্ষা

হাম কীভাবে ছড়ায়?

• কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে

• বাতাসে ভাসমান ভাইরাস (২ ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয়)

• আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে

আর তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে ভালো উপায়। 

দৈনন্দিন অভ্যাস

সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়া

মুখে হাত দেওয়া কমানো

কাশি/হাঁচিতে টিস্যু ব্যবহার

আইসোলেশন

আক্রান্ত শিশুকে ৭–১০ দিন আলাদা রাখা

স্কুলে না পাঠানো

সঠিক পুষ্টিই দ্রুত সুস্থতার চাবিকাঠি, যে সকল পুষ্টিকর খাবার খুব প্রয়োজন এই সময়ে  

ভিটামিন এ → চোখ ও ইমিউনিটি

ভিটামিন সি → সংক্রমণ প্রতিরোধ

জিঙ্ক → দ্রুত রিকভারি ও সুস্থতা

তরল → পানিশূন্যতা প্রতিরোধ

সারাদিনের পুষ্টিকর খাবারের তালিকা 

সকাল:

নরম খিচুড়ি / দুধের তৈরি সুজি বা ফিরনি পায়েস

কলা / পেঁপে লাউ

সেদ্ধ ডিম বা হালকা পোচ ডিম

কমলার বা মালটার জুস বাসায় বানানো

মধ্য সকাল:

ডাবের পানি / লেবুর শরবত, মৌসুমী রঙিন ফল, দই

দুপুর:

নরম ভাত + ডাল এবং পাতলা ঝোলে রান্না করা মাছ বা মুরগি

মুরগির স্যুপ

গাজর/কুমড়া

বিকাল: 

আপেল সেদ্ধ অথবা মিক্সড ফলের সালাদ, অথবা ফালুদা অথবা কাস্টার্ড

সাবুদানা সেদ্ধ + দুধ অথবা দুধের তৈরি পুডিং, ফিরনি পায়েস, বাসায় বানানো হালুয়া

রাত: 

হালকা খিচুড়ি বা গলানো খিচুড়ি / স্যুপ

কুশুম গরম দুধ

হাইজিন ও কেয়ার গাইড

করণীয়-

প্রতিদিন কাপড় পরিষ্কার

বিছানা ধোয়া

ঘরে বাতাস চলাচল নিশ্চিত

সূর্যের আলো প্রবেশ

ব্যক্তিগত যত্ন

চোখ পরিষ্কার রাখা

নখ ছোট রাখা

আলাদা তোয়ালে ব্যবহার

তরল গ্রহণ

বারবার পানি / ডাক্তারের পরামর্শে সঠিক ডোজ এ ওআরএস বা খাবার স্যালাইন

ডাবের পানি, বাসায় বানানো মৌসুমী ফলের শরবত, বাসায় বানানো মুরগির সুপ, সবজির সুপ, ডালের সুপ, ভাতের মার, চিড়ার পানি

হাম হলে যেসব খাবার এড়িয়ে চলতে হবে 

হাম আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে কিছু খাবার রোগকে দীর্ঘস্থায়ী করে এবং উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই নিচের খাবারগুলো এড়িয়ে চলা জরুরি—

১. ভাজাপোড়া ও ঝাল খাবার

যেমন: পুরি, পরোটা, বিস্কুট চানাচুর, ফাস্ট ফুড, চিপস। এগুলো হজমে কষ্ট করে এবং শরীরে প্রদাহ বাড়ায়। 

২. ঠান্ডা ও আইসক্রিমজাত খাবার

যেমন: আইসক্রিম, ঠান্ডা পানীয় গলা ব্যথা ও কাশি বাড়াতে পারে

৩. অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার

যেমন: কেক, চকলেট, মিষ্টি ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে

৪. প্রসেসড ও প্যাকেটজাত খাবার

যেমন: জুস ড্রিংক, সফট ড্রিংক, ইনস্ট্যান্ট নুডলস। এসব খাবারে পুষ্টিগুণ কম, ক্ষতিকর উপাদান বেশি

৫. শক্ত ও হজমে কঠিন খাবার

যেমন: গরুর মাংস, ভাজা মাছ (কঠিন)। এই ধরনের খাবার দুর্বল শরীরে হজমে সমস্যা করে

কেন এসব খাবার ক্ষতিকর?

শরীরের প্রদাহ বাড়ায়

ইমিউন রেসপন্স কমিয়ে দেয়

জ্বর ও দুর্বলতা দীর্ঘায়িত করে

গ্যাস্ট্রিক ও বমির প্রবণতা বাড়ায়

সতর্ক সংকেত

দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন যদি শ্বাসকষ্ট হয়, ৩ দিনের বেশি জ্বর থাকে, খাওয়া বন্ধ করে দেয়, চোখ ফুলে যায়। 

মনে রাখবেন

হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ— কিন্তু অবহেলা করলে তা মারাত্মক হতে পারে।

✔ টিকা দিন

✔ পুষ্টি নিশ্চিত করুন

✔ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন

সচেতন পরিবারই পারে শিশুকে নিরাপদ রাখতে।

পড়ুন- এলএনজি-এলপিজি নিয়ে দেশে আসছে আরও ৫ জাহাজ

দেখুন- রঙে-রূপে বৈশাখের ডাক, চারুকলায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুুতি 

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন