১০/০২/২০২৬, ০:৩২ পূর্বাহ্ণ
22 C
Dhaka
১০/০২/২০২৬, ০:৩২ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

হালুয়াঘাটে নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে বিএনপির বিশাল জনসমাবেশে প্রিন্স

নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে ময়মনসিংহের ১ হালুয়াঘাট আসনে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনী জনসমাবেশে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, এই নির্বাচন রাষ্ট্রকে নতুন ভাবে গড়া ,গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন ।

বিজ্ঞাপন

হালুয়াঘাট পৌর শহরের হালুয়াঘাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিএনপি প্রার্থী বলেন , ধানের শীষেই মুক্তি, গণতন্ত্র ও জনগণের ভাগ্য ফেরানোর একমাত্র পথ। তিনি সকলকে ধানের শীষ প্রতীকে আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন , কৃষক কাঁদে, যুবক বেকার,গারো পাহাড়ের পাদদেশে অনুন্নত জনপদ —এ অবহেলার জবাব দেবে ধানের শীষ ।

তিনি বলেন , হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া আজ অবহেলার প্রতীক। পাহাড়ী ঢলে বন্যায় বিস্তীর্ণ জনপদ হয় প্লাবিত , সীমান্ত অরক্ষিত, কৃষক ন্যায্য দাম পায় না, আর তরুণ সমাজ বেকার হয়ে ভবিষ্যৎ হারাচ্ছে, দরিদ্রতা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে ।

প্রিন্স বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পাহাড়ী ঢলে প্রতিবন্ধকতা না থাকায় প্রতি বছর কৃষকের স্বপ্ন পানিতে ডুবে যায়। সবাই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে , কিন্তু মাঠে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয় নাই ।এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে হবে ।

তিনি বলেন, “ধানের শীষে ভোট মানে কৃষকের কান্নার জবাব।”

তিনি আরও বলেন , হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়ার মানুষ উন্নয়ন বঞ্চিত। রাস্তা-ঘাট, কৃষি, সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান—সব ক্ষেত্রেই বৈষম্য করা হয়েছে। জনগণের ভোটে ধানের শীষ বিজয়ী হলে হালুয়াঘাটকে একটি বৈষম্যমুক্ত ,পরিকল্পিত ও উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে । তিনি বলেন , মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খায় সাম্য ,মানবিকতার ভিত্তিতে তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার আলোকে দল-মত -ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ ও বৈষম্যহীন গণতন্ত্রান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়বো। এই সকল পরিবারে মা, গৃহিনীর নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এর মাধ্যমে বিনামূল্যে খাদ্য দ্রব্য , কৃষককে ‘ কৃষক কার্ড’ প্রদানের মাধ্যমে উৎপাদনে সহায়তা , ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান , শিক্ষিত বেকারদের এক বছরের জন্য ‘বেকার ভাতা’ , হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়ায় কল কারখানা স্থাপন ও বেকারত্বের অবসানে উদ্যোগ গ্রহণ , সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ , চোরাচালান ও মাদক মুক্ত কর্মমুখর ও শান্তির জনপদ গড়ে তোলা , বিনামূল্যে মান সম্মত প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা ও গরীব রোগীদের বিনামূল্যে ঔষধ প্রদান, সরকারী হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত , নতুন এম্বুলেন্স প্রদান , প্রতিটি ইউনিয়নে দুর্গম এলাকায় বেসরকারী মিনি হাসপাতাল স্থাপন , নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে উদ্যোগ , প্রতিটি ইউনিয়নের সরকারি ধান ক্রয় কেন্দ্র ¯স্থাপন , ‘ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার’ -এই নীতি বাস্তবায়ন, সকল ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি সুরক্ষা করা হবে। মসজিদের ইমাম , মুয়াজজীন, খতিব এবং মন্দিরের পুরোহিত , গির্জার ফাদারদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ও উৎসব ভাতা প্রদান, মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, মাদ্রাসাসহ ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতি প্রতিষ্ঠানকে উন্নয়নে অগ্রাধিকার প্রদান ,হালুয়াঘাট পৌর সভাকে “প্রথম” শ্রেণীর পৌরসভায় উন্নীতকরা , জলাবদ্ধতা দূর ও পয় নিষ্কাশনসহ পৌর পার্ক, শিশু পার্ক, শিল্পকলা ও শিশু একাডেমী, পাবলিক লাইব্রেরী ,ও বিনোদন কেন্দ্র, ফ্রী ওয়াইফাই জোন স্থাপন , নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যূৎ ও সুপেয় পানীয় জলের সংঙ্কট নিরসন, পাঁচ বছরের মধ্যে ৮০ ভাগ রাস্তা পাকাকরণ ও সেতু নির্মাণ , ময়মনসিংহ থেকে হালুয়াঘাট , ধোবাউড়া হয়ে পূর্ব ধলা পর্যন্ত রেল যোগাযোগ স্থাপন , খাদ্য গুদাম , কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ ,ছাত্র-ছাত্রীদের মান সম্মত শিক্ষা, সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি , হালুয়াঘাটে স্টেডিয়াম নির্মাণ ও নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজন, মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচিতি এবং বীরত্বগাঁথা যুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে পৃথক জাদুঘর প্রতিষ্ঠা ও সড়ক , স্থাপনার নামকরণ , গণ অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে স্মৃতি স্তম্ভ , হালুয়াঘাটে গোবড়াকুড়া ও করইতলী স্থল বন্দরকে পূর্ণাংঙ্গভাবে চালু , বছরব্যাপী আমদানী-রফতানী কার্যক্রম , ইমিগ্রেশন চালু , শ্রমিক ও গারোদের এলাকায় হাসপাতাল স্থাপন ,নিম্ন আয় ও কর্মহীন মানুষের আর্থ সামাজিক উদ্যোগ , মহিলাদের জন্য কুটির শিল্প, তাঁত শিল্পের উদোগ ,,নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা এবং নারী নির্যাতন রোধে কঠোর পদক্ষেপ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমি সচল, জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হবে ।

প্রিন্স অভিযোগ করে বলেন, অতীতে সীমান্ত এলাকা হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়াকে অবহেলিত রেখে উন্নয়নের নামে লুটপাট চালিয়েছে। কৃষক ফসলের ন্যায্য দাম পায় না, তরুণরা বেকার, আর সাধারণ মানুষ দ্রব্যমূল্যের আগুনে পুড়ছে। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রথম কাজ হবে মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি রাষ্ট্র মেরামতের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য জনগণের রায় চাইছে। এই নির্বাচনে ধানের শীষে বিজয় মানেই জনগণের বিজয়, গণতন্ত্রের বিজয়।

সমাবেশ শেষে ধানের শীষের পক্ষে এক বিশাল গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি হালুয়াঘাট পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাসস্ট্যান্ডে এসে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারী হাজারো মানুষ স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলে পুরো পৌর শহর ।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালাম, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, পৌর বিএনপির আহবায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মাওলানা আমিনুল ইসলাম , সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হামিদ, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ডা. ইমাম উদ্দীন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম আলী অজগরের ছেলে ব্যারিস্টার খালিদ ইকবাল নিটোল, গারো নেতা জর্নেস চিরান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন ।

পড়ুন : ময়মনসিংহে নির্বাচন হবে সুষ্ঠ-নিরপেক্ষ : জেলা প্রশাসক

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন