পদ্মা সেতু দুর্নীতি ও ষড়যন্ত্র মামলা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার দুর্নীতি মামলার পুনরায় তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। সেই সাথে তার ও পরিবারের সদস্যদের দেশে- বিদেশে লেনেদেনের তথ্যসহ আট মেগা প্রকল্পের নথি তলব করেছে দুদক।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের মেগা দুর্নীতির ঘটনা অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসছে একাধিক তথ্য। প্রতিনিয়ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’র বক্তৃতা দেওয়া হাসিনার সন্তান ও বোন-ভাগনিরা ছিলেন আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। নিজ ঘরেই তিনি রোপণ করেছিলেন দুর্নীতির বিষবৃক্ষ-চাঞ্চল্যকর এমন তথ্য পেয়েছেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তারা।
ইতিমধ্যে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ৮০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।
তাদের বিরুদ্ধে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচারের পৃথক আরেকটি অভিযোগও অনুসন্ধান করছে সংস্থাটি। এরই ধারাবাহিকতায় হাসিনা পরিবারের দেশে-বিদেশে লেনদেনের সব নথি ও প্রকল্প নথি তলব করলো দুদক।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্রিফ করেন দুদক মহাপরিচালক প্রতিরোধ আক্তার হোসেন। দুদক জানায়, পদ্মা সেতু দুর্নীতি ষড়যন্ত্র মামলার পুনরায় তদন্ত শুরু করেছে দুদক। এছাড়াও সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নভোথিয়েটার দুর্নীতি মামলা পুনরায় তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। তিন মামলায় আসামি হলেও পরে দায়মুক্তি পান তিনি।
দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন প্রধান উপদেষ্টার দফতরে চিঠি দিয়ে এসব তথ্য চেয়েছেন। আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে এসব তথ্য সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। যেসব প্রকল্পের কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল, খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্প, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২, বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরে পানি শোধনাগার ও গভীর নলকূপ স্থাপন প্রকল্প, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরে ২টি মডার্ন ফায়ার স্টেশন স্থাপন প্রকল্প, মীরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর উন্নয়ন প্রকল্প।
এসব প্রকল্পের প্রস্তাব, প্রাক্কলন, অনুমোদিত প্রস্তাব, প্রাক্কলন, বাজেট অনুমোদন, বাজেট বরাদ্দ, অর্থ ছাড়করণ, ব্যয়িত অর্থের পরিমাণ ও বিবরণ, প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা সংক্রান্ত তথ্যাদি সম্বলিত নথির নোটের অংশ ও পত্রের অংশের সংযুক্তিসহ রেকর্ডপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি সরবরাহের কথা বলা হয়েছে।
টিএ/


