দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার সাদুরিয়া হিলি ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি বন্ধ রেখে পালিয়ে যাওয়ার সময় জনরোষের মুখে পড়েছেন সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার।
আজ বুধবার বিকেল ৫টার দিকে এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম মো. সাখাওয়াত হোসেন, যিনি হাকিমপুর উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত এবং ইউএনও কর্তৃক ওই পাম্পের তদারকির জন্য ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে হিলি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের জন্য অসংখ্য মোটরসাইকেল আরোহী দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছিলেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এমনিতেই ক্ষোভ বিরাজ করছিল। এরই মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার মো. সাখাওয়াত হোসেন উপস্থিত গ্রাহকদের তেল দেওয়ার ব্যবস্থা না করে বা কোনো কিছু না জানিয়েই নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে পাম্প থেকে দ্রুত সরে পড়ার চেষ্টা করেন।
জনরোষ ও পথরোধ ট্যাগ অফিসারকে পালিয়ে যেতে দেখে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা উত্তেজিত জনতা পাম্পের অদূরেই তার পথরোধ করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা চিৎকার করে বলতে থাকেন:
”আমাদেরকে অন্তত ১০০ টাকার হলেও তেল দিতে হবে। সাধারণ মানুষকে তেলের জন্য লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে দায়িত্ব ফেলে আপনি এভাবে পালিয়ে যেতে পারেন না।”
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ওই কর্মকর্তা জনতার সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন, যা পরবর্তীতে চরম উত্তোজনায় রূপ নেয়।
ঘটনার খবর পেয়ে ‘নাগরিক টিভি’র সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ট্যাগ অফিসার মো. সাখাওয়াত হোসেন আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি কর্তব্যরত সাংবাদিককে ফুটেজ নিতে বাধা প্রদান করেন এবং উল্টো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয়কে ফোন করে অভিযোগ করেন যে, সাংবাদিকরা সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
সরকারি কর্মকর্তার এমন ভিত্তিহীন অভিযোগে উপস্থিত জনতা ও মোটরসাইকেল চালকরা আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তারা ওই কর্মকর্তার দ্বিমুখী আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং অভিযোগ করেন যে, তিনি নিজের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে উল্টো দায় এড়াতে মিথ্যাচার করছেন।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে ট্যাগ অফিসার মো. সাখাওয়াত হোসেন দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তবে একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার এমন অপেশাদার ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সংকটের সময়ে সাধারণ মানুষকে সেবা না দিয়ে পালিয়ে যাওয়া এবং গণমাধ্যমকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
পড়ুন- নেত্রকোনায় ধর্ষণের শিকার শিশু, অভিযুক্তের খোঁজে পুলিশ


