চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আমনুরায় হোটেল শ্রমিক আকাশের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের জাল বিস্তৃত হয়েছে। কিভাবে মৃত্যু হয়েছে সেই উত্তর খুঁজে চলেছে তার পরিবার, আত্মীয় ও স্থানীয়রা। আকাশের মৃত্যুর জন্য হোটেল মালিককে সন্দেহ করছেন তার পরিবার। পুলিশের ভুমিকা নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। ‘একটি পক্ষ’ তাদের মামলা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। নিজের অপরাধ ঢাকতে পুলিশ ও সাংবাদিক ম্যানেজে করতে কয়েক লাখ টাকা ব্যয় করেছেন হোটেল মালিক মোনতাজ আলী।
তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিক ধারণা এটি হত্যাকান্ড নয়। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতেই লাশের ভিসেরা পরীক্ষার জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন এলেই এ ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হবে।
জানা গেছে, গত ১লা এপ্রিল আমনুরার দরগা পুকুর থেকে আকাশ নামে ওই হোটেল কর্মচারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আকাশ ঝিলিম ইউনিয়নের আমনুরা বালিকা পাড়ার মৃত আয়নাল হকের ছেলে। এ ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন তার মা। এরআগে ৩০ মার্চ থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
আকাশের ছোট ভাই আশিক জানান, গত ৩০ মার্চ রাতে হোটেলের কাজ শেষে ঈদের বাজার নিয়ে বাড়ি আসবে বলে ফোনে পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। এরপর আমার ভাই নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করে কোথাও পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের দুই দিন পর ১লা এপ্রিল পুকুরে তার ভাইয়ের মরদেহ ভাসতে দেখেন।
আকাশের বোন আশা বেগম বলেন, আমার ভাই আমনুরা বাজারের মোনতাজ নামে এক ব্যাক্তির হোটেলের কর্মচারি ছিল। ঈদের আগে পারিশ্রমিক চাইতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়। হোটেল মালিক মোনতাজ পারিশ্রমিক না দিয়ে তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তারপর থেকে আমার ভাই নিখোঁজ ছিল। দুইদিন পর পুলিশ ফাঁড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার হয়। আমরা অভিযুক্তদের নামে মামলা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পুলিশ অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘একটি পক্ষ’ তাদের মামলা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তদন্তের ক্ষেত্রে ভিসেরা প্রতিবেদন যাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, এ বিষয়ে প্রশাসনের আন্তরিকতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
আকাশের পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হোটেল মালিক মোনতাজ আলী বলেন, আকাশ তার কর্মচারি ছিল। পারিশ্রমিক নিয়ে চলে যাওয়ার পর থেকে আকাশ নিখোঁজ হয়। দুই দিনপর তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আকাশের মৃত্যুর জন্য তাকে অন্যয়ভাবে দোষারোপ করা হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মতিউর রহমান জানান, গত ১লা এপ্রিল ঝিলিম ইউনিয়ন পরিষদের পাশে দরগা পুকুরে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সেটি হোটেল শ্রমিক আকাশের মরদেহ বলে নিশ্চিত করে তার পরিবার। ৩০ মার্চ থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। লাশের ভিসেরা পরীক্ষার জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন এলেই মৃত্যু রহস্য উন্মোচিত হবে। এ ঘটনায় তার মা বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করেছেন।
এনএ/



আকাশের ভাই বাদী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আমলী আদালতে সুনির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছে। সেটা আসলে ভালো হতো…