33 C
Dhaka
০৪/০৩/২০২৬, ১৬:২৭ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

১০ বন্দি মুক্তির বিনিময়ে যুদ্ধবিরতিতে প্রস্তুত হামাস

গাজায় যুদ্ধবিরতি আলোচনার অংশ হিসেবে ১০ জন জীবিত বন্দিকে মুক্তি দিতে রাজি হয়েছে হামাস। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী এই সংগঠনটি জানিয়েছে, গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের পূর্ণ নিশ্চয়তা, ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং একটি বাস্তব ও স্থায়ী শান্তির নিশ্চয়তা দেওয়া হলে তারা এই বন্দি মুক্তি কার্যকর করবে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

কাতারের মধ্যস্থতায় চারদিন ধরে দুই দেশের পরোক্ষ আলোচনা চলার পর এই বিবৃতি দেয় হামাস। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির বিষয়ে একটি চুক্তি এই সপ্তাহের মধ্যেই হয়ে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, এ সপ্তাহের মধ্যেই ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি চুক্তি হতে পারে। তিনি বলেন, এই সম্ভাব্য চুক্তির একটি অংশ হিসেবেই মুক্তি পাবে ওই ১০ জন জীবিত জিম্মি, যাদের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার সময় আটক করা হয়েছিল।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষায় আশার সুর পাওয়া গেছে। ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানিয়েছেন, একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি চলে এসেছে তারা। সেনাপ্রধান এয়াল জমির বলেন, সেনা অভিযানের মাধ্যমে ইতোমধ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা চুক্তিকে বাস্তবায়নের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

তবে দোহায় চলমান আলোচনা এখনো নানা জটিলতায় আটকে রয়েছে। এক ফিলিস্তিনি আলোচক জানিয়েছেন, ইসরায়েলি প্রতিনিধিরা মূলত আলোচনা করছে না, তারা শুধু শুনছে। এই মনোভাব নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে চুক্তি বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।
হামাস দাবি করছে, তারা আলোচনায় নমনীয়তা দেখালেও ইসরায়েলের একগুঁয়ে অবস্থানের কারণে চুক্তির পথে এগোনো কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে, গাজায় মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। বুধবার ইসরায়েলি হামলায় গাজার আল-শাতি শরণার্থী শিবিরে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিস্ফোরণটি ছিল ভূমিকম্পের মতো। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৬ জন শিশু রয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা হামাসের সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছে। তবে গাজার ওপর মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা এবং প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকায় নিহতের সংখ্যা বা ঘটনা পুরোপুরি যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।

২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের আকস্মিক হামলায় ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে প্রাণ হারায় প্রায় ১,২০০ মানুষ এবং বন্দি করা হয় ২৫১ জনকে। এর অধিকাংশই ছিলো বেসামরিক নাগরিক। ধারণা করা হয়, ৫০ জন বন্দি এখনো গাজায় অবস্থান করছে, যাদের মধ্যে ২০ জন জীবিত আছেন।

এর জবাবে ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান চালায়, যার ফলে মারা যান অসংখ্য গাজাবাসী। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন ৫৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি, যার অধিকাংশই বেসামরিক ছিলো। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজার অধিকাংশ এলাকা। বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে গাজার পুরো জনসংখ্যা। জাতিসংঘ বলছে, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন: গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৭৪ ফিলিস্তিনি

এস/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন