১০/০২/২০২৬, ২১:৩৫ অপরাহ্ণ
24 C
Dhaka
১০/০২/২০২৬, ২১:৩৫ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

১৩’রোহিঙ্গা’ নাগরিকের জন্মনিবন্ধন তৈরি- ইউপি উদ্যোক্তার স্বামী রিমান্ডে

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে চেয়ারম্যান মেম্বারের সিল স্বাক্ষর জাল করে ১৩ ‘রোহিঙ্গা’ নাগরিকের জন্মনিবন্ধন তৈরির অভিযোগে প্রেপ্তার মওদুদ আহমেদ শাওনের (৩৫) তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। পরে বিচারক তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহনগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জয় পাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এরআগে গত গত বুধবার দুপুরে মোহনগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনের একটি দোকান থেকে রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন করার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। পরদিন এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গ্রেপ্তার শাওন মোহনগঞ্জ পৌরশহরের টেংগাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার স্ত্রী ঝর্ণা আক্তার উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের উদ্যোক্তা। স্ত্রী’র স্থলে অনলাইনের যাবতীয় কাজকর্ম করতেন শাওন।

পুলিশ, স্থানীয় কয়েকজন উদ্যোক্ত ও এলাকার একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে, চার-পাঁচ বছর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে টেকনিশিয়ান পদে আবেদন করেন শাওন। চাকরি না হলেও তখন থেকেই ওই কার্যালয়ের সকল অনলাইন কাজকর্মের দায়িত্ব পালন করা শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) টিসিবি কার্ড সংযোজন ও যাচাই বাছাই সংক্রান্ত ওয়েব সাইট ও জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ওয়েব সাইটের পাসওয়ার্ডসহ সকল কিছুর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন শাওন।

ইউএনও কার্যালয়ে কাজের প্রভাব খাটিয়ে অন্য সাত ইউনিয়নের জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ সকল কাজের নিয়ন্ত্রণও কব্জা করেন তিনি। চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সিল স্বাক্ষর নকল করে অবৈধ জন্মনিবন্ধন তৈরির বাণিজ্য শুরু করেন। এতে দ্রুত তিনি কোটি টাকার মালিক বনে যান। উপজেলা পরিষদের মুল ফটকের পাশেই একটি দোকানে গাগলাজুর ইউনিয়নের উদ্যোক্তার কাজ করতেন শাওন।

গত বুধবার ১৩ রোহিঙ্গার জন্মনিবন্ধন তৈরির অভিযোগে তার দোকানে অভিযান চালায় প্রশাসন। এসময় ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পাশাপাশি তার ব্যবহৃত ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার ও স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।

পরদিন এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সচিব রাজীব মিয়া বাদী হয়ে শাওনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। আজ সোমবার দুপুরে শাওনকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে এ ঘটনায় গত বুধবারই গাগলাজুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইমরান মিয়া ও সচিব রাজিব মিয়াকে শোকজ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহনগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জয় পাল বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। পহেলা জানুয়ারি তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন বলেন, আশা করছি পুলিশের তদন্তে বিস্তারিত বের হয়ে আসবে। আর চেয়ারম্যান-সচিবের শোকজের জবাব পাওয়ার পর জেলায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠিত হবার কথা জানান।

পড়ুন- ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামালের মনোনয়ন জমা

দেখুন- বেগম খালেদা জিয়া অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেন নি: ড. মঈন খান 

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন