১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী সংসদ সদস্য (এমপি) হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আবদুল হান্নান মাসউদ। হলফনামা অনুযায়ী, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে তিনিই ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ।
২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিতি পান মাসউদ। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্বের শূন্যতায় সক্রিয় ভূমিকা রেখে তিনি আলোচনায় আসেন। পরে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, মাসউদ পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মাহবুবের রহমান শামীম পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২১ ভোট। ১১ দলীয় জোটের ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি উপকূলীয় এ আসনে নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা জাগিয়েছেন।
২০০০ সালের ১ জানুয়ারি নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন মাসউদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার সময় থেকেই বিভিন্ন ছাত্র-অধিকার ইস্যুতে সক্রিয় ছিলেন। আবাসিক হলে অবস্থানকালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ভূমিকা তার রাজনৈতিক পরিচিতিকে আরও বিস্তৃত করে।
নোয়াখালী-৬ আসনটি পুরোপুরি দ্বীপ ও চরাঞ্চল নিয়ে গঠিত। মেঘনা নদীর মোহনা ও বঙ্গোপসাগর-সংলগ্ন এ জনপদে মাছধরা ও কৃষিই প্রধান জীবিকা। নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা এখানকার দীর্ঘদিনের সমস্যা। নির্বাচনী প্রচারে মাসউদ স্থায়ী ও আধুনিক বাঁধ নির্মাণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং উপকূলীয় মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।
নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি হাতিয়াকে আধুনিক ও পরিকল্পিত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তার ভাষায়, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা, ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনা কাজে লাগানো, মৎস্যসম্পদ ও পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন এবং স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি অগ্রাধিকার পাবে। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, ইউনিয়নভিত্তিক ডিজিটাল লাইব্রেরি স্থাপন এবং চরাঞ্চলে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।
সংবিধানের ৬৬(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্য হওয়ার ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর। সে হিসাবে ২৬ বছর বয়সে এমপি হয়ে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মাসউদ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথাগত রাজনৈতিক পরিবার বা আর্থিক প্রভাব ছাড়াই তার এই বিজয় দেশের রাজনীতিতে প্রজন্মগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। তবে অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের ভিড়ে সংসদে নিজস্ব অবস্থান সুদৃঢ় করা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
পড়ুন: নতুন সরকার গঠন হতে পারে ১৬ ফেব্রুয়ারি
আর/


