আগামী ২৭ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা। সোমবার (২৪ নভেম্বর) ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষা ২০২৪ এর লিখিত অংশের (আবশ্যিক ও পদ-সংশ্লিষ্ট) আসন ব্যবস্থা ও পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত বিস্তর নির্দেশনা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।
আবশ্যিক ও পদ সংশ্লিষ্ট উভয় বিষয়ের পরীক্ষার জন্য প্রকাশিত এই নির্দেশনায় হলে মোবাইল ফোন, ঘড়ি, ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ নিষিদ্ধ সামগ্রী সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো ধরনের অসদুপায় বা নিয়ম লঙ্ঘন করলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়টিও জানিয়েছে পিএসসি।
কমিশনের পরীক্ষার নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) মাসুমা আফরীনের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন, ঘড়ি, স্মার্টওয়াচ, ইলেকট্রনিক যোগাযোগযন্ত্র, বই–পুস্তক, ব্যাগ, মানিব্যাগ, ব্যাংক বা ক্রেডিট কার্ড, ক্যালকুলেটর (গাণিতিক যুক্তি ব্যতীত), কিংবা অন্য কোনো নিষিদ্ধ সামগ্রী আনা যাবে না। হলের প্রবেশপথে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশির পর প্রবেশপত্র যাচাই করে হলে ঢুকতে দেওয়া হবে। পরীক্ষার সময় কারো কাছ থেকে এসব সামগ্রী পাওয়া গেলে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পদ–সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মধ্যে গণিত, ফলিত গণিত, পদার্থবিদ্যা, ইলেকট্রনিক্স, হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স, মার্কেটিং, কম্পিউটার সায়েন্স, পরিসংখ্যান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের পরীক্ষার্থীরা কেবল সায়েন্টিফিক নন–প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবেন। পরিসংখ্যান (বিষয় কোড ৯৮১) পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীরা হাইপোথিসিস টেস্টিংসহ প্রয়োজনীয় পরিসংখ্যানিক সারণি সঙ্গে আনতে পারবেন।
আর পরীক্ষার হলে প্রবেশের পর পরীক্ষার্থীরা মুখ বা কানের ওপর কোনো আবরণ রাখতে পারবেন না। পরীক্ষার সময় কোনো অসদুপায়ে লিপ্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কারসহ আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপস্থিতি তালিকায় থাকা ছবি ও স্বাক্ষরের সঙ্গে প্রবেশপত্র যাচাই করে পরীক্ষার্থীদের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। মিল না পেলে তাকে বহিষ্কার করা হবে। সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছে পিএসসি।
লিখিত পরীক্ষায় ডাবল লিথোকোড ও বারকোডযুক্ত ওএমআর সংযুক্ত উত্তরপত্র ব্যবহার করা হবে। এতে নাম, বিষয় কোড, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও কেন্দ্র–সংক্রান্ত তথ্য কালো কালির বল পয়েন্ট কলম দিয়ে পূরণ করতে হবে। ভুল কোড পূরণ, কাটাকাটি, দাগ বা ফ্লুইড ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট উত্তরপত্র বাতিল হবে। কোনোভাবেই মূল বা অতিরিক্ত উত্তরপত্রে পরীক্ষার্থীর নাম বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখা যাবে না।
বাংলা বিষয়ের (০০১ ও ০০২ কোড) পরীক্ষা দুই দিন অনুষ্ঠিত হবে। ‘কারিগরি/পেশাগত’ ক্যাডারের প্রার্থীরা ১০০ নম্বরের ০০১ কোডের পরীক্ষায় অংশ নেবেন, আর ‘সাধারণ’ ক্যাডারের প্রার্থীরা অংশ নেবেন ২০০ নম্বরের ০০২ কোডে। উভয় ক্যাডারের প্রার্থীদের দুই দিনই পরীক্ষা দিতে হবে। ২৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ০০১ কোডের ৩ ঘণ্টার পরীক্ষা এবং ৩০ নভেম্বর ০০২ কোডের ৪ ঘণ্টার পরীক্ষা। ভুল কোড পূরণ করলে পরীক্ষা বাতিল হবে।
মানসিক দক্ষতার এমসিকিউ পরীক্ষা (বিষয় কোড ০০৯) অনুষ্ঠিত হবে ৭ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। পরীক্ষার ঠিক আগে পরীক্ষার্থীদের দুই অংশে বিভক্ত ওএমআর উত্তরপত্র দেওয়া হবে। প্রথম অংশটি পূরণ শেষে পরীক্ষা শুরু হলে পরিদর্শক আলাদা করে নেবেন। দ্বিতীয় অংশে ৫০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। বৃত্ত পূরণ অবশ্যই কালো বল পয়েন্ট কলম দিয়ে করতে হবে পেন্সিল বা ফ্লুইড ব্যবহার করলে উত্তরপত্র বাতিল হবে।
প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের আবেদনের ভিত্তিতে পিএসসি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শ্রুতিলেখক প্রদান করবে। শুধু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের প্রতি ঘণ্টায় অতিরিক্ত ১০ মিনিট বরাদ্দ থাকবে। পিএসসি কর্তৃক অনুমোদিত শ্রুতিলেখক ছাড়া অন্য কাউকে গ্রহণ করা হবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রতিটি পরীক্ষা কক্ষেই সিসি ক্যামেরার আওতায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। অসদুপায় অবলম্বন থেকে বিরত থাকতে পরীক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পড়ুন : ৪৭তম বিসিএস: সময় পেছানোর দাবিতে শাহবাগে পরীক্ষার্থীদের অবস্থান


