নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত গাগলাজুর-তেঁতুলিয়া আরসিসি সড়ক এখন জনদুর্ভোগের আরেক নাম। প্রায় ২৮ কোটি টাকা বাজেটের এ সড়ক সংস্কারের নামে চলছে চরম অনিয়ম, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও দীর্ঘসূত্রিতা। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির প্রতিবাদে এবার ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
রবিবার (১ মার্চ) দুপুর দেড়টায় মোহনগঞ্জের গাগলাজুর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া ও গাগলাজুর ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে নির্মাণাধীন সড়কের ওপর এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে এলাকার কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সড়কটিতে দীর্ঘদিন পর ২০২৪ সালে ২৮ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ হয়। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজের কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। ডিঙ্গাপোতা হাওরের ধান সারা দেশের খাদ্যের একটি বড় জোগান দেয়। কিন্তু রাস্তার এমন বেহাল দশার কারণে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান পরিবহন করতে না পেরে বাধ্য হয়ে তিনশো-চারশো টাকা কমে ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। আমাদের ট্যাক্সের টাকায় রাস্তা হবে, অথচ এখানে হরিলুট চলছে।”
তিনি প্রশাসনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আগামী রোজার দ্বিতীয় দিনের মধ্যে যদি এ রাস্তা সংস্কারের সুষ্ঠু সমাধান না হয়, তবে আমরা ইউএনও এবং এসিল্যান্ড মহোদয়ের কার্যালয়ে তালা ঝোলাতে বাধ্য হবো। বর্ষাকালে (এপ্রিল-জুন) হাওর পানিতে তলিয়ে যায়, আর ইঞ্জিনিয়াররা তখন কাজের সময়সীমা বেঁধে দেন, যা রীতিমতো সাধারণ মানুষের সাথে মশকরা করার শামিল।”
ছাত্রদল ঢাকা কলেজ শাখার সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন তপু বলেন, “গত দুই বছর ধরে রাস্তাটি এভাবেই পড়ে আছে। আমরা এলজিইডি’র দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিতে চাই, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। যেখানে সাধারণ মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে, সেখানেই আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব।”
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, শুধু ধীরগতিই নয়, কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার বিভিন্ন অংশে ভাঙন ও কাদার সৃষ্টি হয়। এতে কৃষিপণ্য পরিবহনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও শিক্ষা কার্যক্রমেও ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নেত্রকোনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, “রাস্তাটির নির্মাণকাজ নিম্নমানের হচ্ছে- এমন অভিযোগ সঠিক নয়, বরং কাজটা বর্তমানে বন্ধ আছে। মূল সমস্যা হলো, ঠিকাদার প্রকাশ্যে আসতে পারছে না। তা সত্ত্বেও তিনি অন্য লোক দিয়ে কাজ করাচ্ছিলেন এবং এতদিন কাজ চলছিল। কিন্তু নির্বাচনের সময় শ্রমিকরা চলে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত তারা আর কাজে ফিরে আসেনি। আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দিচ্ছি এবং চিঠিপত্র পাঠাচ্ছি। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি, যদি এরপরও কাজ শুরু না হয়, তবে আমরা কার্যাদেশ (চুক্তি) বাতিলের দিকে এগিয়ে যাব।”
দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজের গুণগত মান যাচাই করে মানসম্মতভাবে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা না হলে আগামীতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচির ঘোষণা দেন মানববন্ধনে উপস্থিত জনতা।
পড়ুন-তেতুলিয়ায় এইচ আর এলপিজি অটো ফিলিং স্টেশনে অবৈধভাবে রান্নার সিলিন্ডারে রিফিল হচ্ছে এলপিজি গ্যাস


