ঈদ মানেই আনন্দ আর সেই আনন্দকে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ঐতিহ্যে রূপ দিয়েছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকার জানে উল্লাহ মুন্সী জামে মসজিদ বাড়ির পরিবার।
প্রায় ৩৮৬ বছর ধরে বংশ পরম্পরায় চলে আসছে এই ঈদ মেজবানির আয়োজন, যা এখন শুধু একটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের বিভিন্ন গ্রামেও।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে ইরাক থেকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে এ অঞ্চলে আসেন জানে উল্লাহ মুন্সী (রহ.)। তার হাত ধরেই ধীরে ধীরে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় পরিণত হয় ভাটিয়ারী। তার প্রতিষ্ঠিত মসজিদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে ধর্মীয় ও সামাজিক নানা কার্যক্রম।
ঈদের সময় দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা এই মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসতেন। তখন তাদের আপ্যায়নের জন্য মসজিদের পাশের পুকুর থেকে মাছ ধরে এবং গরু-ছাগল জবাই করে রান্না করা হতো। সেই আতিথেয়তাই সময়ের সঙ্গে পরিণত হয় ঐতিহ্যবাহী মেজবানে।
বর্তমানে এই ঈদ মেজবান কয়েক হাজার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রিপন জানান, এবছর ছয়টি বড় গরু জবাই করে প্রায় ৮ হাজার অতিথিকে মেজবানে আপ্যায়ন করা হয়েছে।
মসজিদ কমিটির সভাপতি শিল্পপতি মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন, “মেজবানি শুধু খাবার নয়, এটি ভালোবাসা, সম্মান ও একতার প্রতীক। সময়ের সঙ্গে এই ঐতিহ্য আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।”
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফরিদুল আলম জানান, এবারের মেজবানে প্রায় ৪০ মণ মাংস, ৭৫০ কেজি আলু ও ৩০০ কেজি চনার ডাল ব্যবহার করা হয়েছে।
একই ইউনিয়নের নাছির মোহাম্মদ চৌধুরী বাড়ি জামে মসজিদেও শত বছরের বেশি সময় ধরে ঈদ মেজবানির ঐতিহ্য চলে আসছে। এ বছর সেখানে দুই হাজারের বেশি অতিথিকে আপ্যায়ন করা হয়েছে বলে জানান সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আনোয়ার।
স্থানীয়দের মতে, এই মেজবান শুধু খাবারের আয়োজন নয়, এটি মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।


