রাজনীতিতে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে তৃতীয় শক্তি হিসেবে নতুন জোট করতে চেয়েছিল এনসিপিসহ পাঁচটি রাজনৈতিক দল। শেষ পর্যন্ত তিন দল (এনসিপি, এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন) নিয়েই ‘রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ঐক্য’ জোট করতে হচ্ছে।
আজ রোববার বিকেল ৪টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে।
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু জানিয়েছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার রক্ষা এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গঠনের উদ্দেশ্যে এই জোট গঠন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে এনসিপি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও এ বি পার্টিসহ কয়েকটি দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম–সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ভূঁইয়া বলেন, “আপাতত তিনটি দলের সমন্বয়ে এই রাজনৈতিক ও নির্বাচনী জোট তৈরি হচ্ছে।” তবে এই জোটে অন্য দল যেমন ইউপিবি (ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ) বা গণ অধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতাদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে মতভেদ থাকায় পূর্ববর্তী বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, যা কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
এর আগে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বাইরে এনসিপি, এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও গণ অধিকার পরিষদের সমন্বয়ে একটি নির্বাচনী জোটের আলোচনা সামনে আসে গত মাসের শেষ সপ্তাহে৷ শেষ পর্যন্ত গণ অধিকার পরিষদের থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা যায়।
জোট নিয়ে গণ অধিকারের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, ‘যখন বৈঠক হয়েছে, সেখানে জোটের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা কিছু প্রশ্ন করেছিলাম৷ কিন্তু সেগুলোর উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি৷ প্রশ্নের উত্তর না নিয়ে তো আমরা অন্ধকারে ঝাঁপ দিতে পারি না৷
এদিকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের একাংশের উদ্যোগে গঠিত রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম আপ বাংলাদেশকে (ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ) এই জোটে রাখার প্রশ্নে এনসিপির নেতারা তীব্র আপত্তি তোলেন৷ আর গণ অধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এই জোটে আসা নিয়ে মতভেদ ছিল৷ এসব কারণে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই ওই দিনের বৈঠকটি শেষ হয়৷
এরপর এই জোট নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়৷ সবশেষ তিন দলকে নিয়েই জোটের ঘোষণা আসতে পারে আজ বিকেলে।
পড়ুন: গুমের সরাসরি নির্দেশ দিতেন শেখ হাসিনা : ট্রাইব্যুনালকে চীফ প্রসিকিউটর
আর/


