২৪/০২/২০২৬, ২:৫৪ পূর্বাহ্ণ
20.8 C
Dhaka
২৪/০২/২০২৬, ২:৫৪ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

৪৮ জেলায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিগনেচার প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধন

দেশের ৪৮ জেলায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিগনেচার প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়াধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “দেশের ৪৮ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে। ৩ মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ ৫ অক্টোবর একযোগে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মাহবুব-উল-আলম।

দেশব্যাপী এ প্রকল্পের ব্যাপক চাহিদা ও প্রশিক্ষণার্থীদের সফলতা বিবেচনায় তিনি এ প্রকল্পকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের “সিগনেচার” প্রকল্প বলে আখ্যায়িত করেন।

এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১), যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার একান্ত সচিব মো: আবুল হাসান (যুগ্মসচিব), ফ্রিল্যান্সিং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান “ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড” এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলোচ্য এ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোঃ মানিকহার রহমান (যুগ্মসচিব)।

প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, আমি খুলনা জেলাতে ৪র্থ ব্যাচের বাছাই পরীক্ষা সরেজমিন পরিদর্শন করি ও সার্বিক তত্ত্বাবধান করি এবং সেখানে এক জেলাতেই মাত্র ৭৫ টি আসনের বিপরীতে ১০৭৩ জন ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। যা এ প্রকল্পের ব্যাপক চাহিদাকে ইঙ্গিত করে। এছাড়া তিনি প্রকল্পের সফলতাকে সবার সামনে তুলে ধরেন এবং আরো উল্লেখ করেন “যোগ্য” একটি প্রতিষ্ঠানকে এ মন্ত্রণালয় প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিয়েছে, যারা তাদের দক্ষ জনবল ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে এ প্রকল্প সফলতার সাথে পরিচালনা করছে।

এছাড়া এ সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, উপসচিবসহ সকল কর্মকর্তাবৃন্দ ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সকল পরিচালক, সহকারী প্রকল্প পরিচালক, সংশ্লিষ্ট জেলার উপপরিচালকগণসহ সকল কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড এর জেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষক, কো-অর্ডিনেটরসহ প্রধান কার্যালয়ের সকল কর্মকর্তাবৃন্দ।

এ সময় দেশের ৪৮ জেলা থেকে ফ্রিল্যান্সিং এ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান “ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড” এর ৪র্থ ব্যাচের ৩৬০০ প্রশিক্ষণার্থী (প্রতি জেলায় ৭৫ জন * ৪৮ জেলা) এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে পূর্বের ব্যাচের ২ জন প্রশিক্ষণার্থী তাদের সফলতার গল্প তুলে ধরেন ও ২ জন নতুন প্রশিক্ষণার্থী এ প্রশিক্ষণে সুযোগ পাওয়ার অনুভূতি তুলে ধরেন। এ সময় সচিব মহোদয় তাদের সাথে সরাসরি কথা বলেন ও তাদের সফলতার বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে চান এবং জেনে খুশি হয়ে তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এছাড়া সকল সাবেক প্রশিক্ষণার্থী ও নতুন প্রশিক্ষণার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

সেপ্টেম্বর’২০২৫ পর্যন্ত এ প্রকল্পের আওতায় প্রকল্পভূক্ত ৪৮ জেলায় ৩টি ব্যাচে ৪০% এর অধিক নারী প্রশিক্ষণার্থীসহ সর্বমোট ৭২০০ জন যুব ও যুব নারী প্রশিক্ষণার্থীর সফলভাবে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী যুবদের মধ্যে ৪৫৬৭ জন বা ৬৩% প্রশিক্ষণার্থী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজ করে আয় করতে সক্ষম হয়েছে। এ সকল প্রশিক্ষণার্থী এ পর্যন্ত প্রায় ৬ লক্ষ ১ হাজার ৫ শত ২৬ ডলার ও ২ কোটি ৭৩ লক্ষ ৬৩ হাজার ৩ শত ২১ টাকা, যা বাংলাদেশি টাকায় সর্বমোট ১০ কোটি ১৩ লক্ষ ৫১ হাজার ১৯ টাকার সমপরিমাণ আয় করতে সক্ষম হয়েছে। এ আয় উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড প্রতিষ্ঠানটি আয়কারী প্রশিক্ষণার্থীদের আয় বৃদ্ধি ও যারা আয় করতে সক্ষম হয়নি তাদেরকে আয়ের সাথে সম্পৃক্ত করতে প্রকল্পভুক্ত সকল জেলায় বিনামূল্যে নিয়মিত ভার্চুয়ালি প্রশিক্ষণ পরবর্তী সাপোর্ট বা মেন্টরিং ক্লাস প্রদান করছে। যাতে সকল প্রশিক্ষণার্থী আয়ের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারে।

অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০২৫ মেয়াদি ৩ মাসের এ প্রশিক্ষণ ব্যাচে ভর্তির লক্ষ্যে ৯২,৭৬৩ জন প্রার্থী অনলাইনে আবেদন করে। আবেদনকৃত প্রার্থীর মধ্য থেকে ৪০,৭৫৮ জন যোগ্য আবেদনকারী ভর্তি পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়। পর্যায়ক্রমে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে দেশের ৪৮টি জেলায় মোট ৩৬০০ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়। প্রশিক্ষণার্থীদের দৈনিক ৮ঘন্টা করে ৩ মাস ব্যাপী মোট ৬০০ ঘন্টার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

প্রশিক্ষণ শেষে দৈনিক ২০০ (দুইশত) টাকা হারে যাতায়াত ভাতা ও প্রশিক্ষণ চলাকালীন সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার ও বিকালের নাস্তা প্রদান করা হচ্ছে। যাতে প্রশিক্ষণার্থীরা দূর-দূরান্ত থেকে এসেও ক্লান্তিহীনভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারে। এছাড়া প্রশিক্ষণ চলাকালীন প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ উপকরণ এবং প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের সনদপত্র প্রদান করা হয়।

এছাড়া কার্যাদেশপ্রাপ্ত প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান “ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড” নিজ উদ্যোগে সারাদেশে ৬৪ জেলায় তাদের প্রতি শাখায় ডে ও নাইট শিফটে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্য থেকে ফ্রিল্যান্সার নিয়োগের মাধ্যমে ই-কমার্স তথা এফিলিয়েট মার্কেটিং-সহ নানাবিধ ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কিত কাজ করছে। এক্ষেত্রেও বড় পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে ৬৪ জেলায় গড়ে ২৫ জন করে সর্বমোট প্রায় ১৬০০ জনের অধিক এ কার্যক্রমের আওতায় কাজ করছে।

প্রতি জেলায় বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান “ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড” এর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ল্যাব ও দক্ষ জনবল রয়েছে যা এ প্রশিক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রশিক্ষণ চলাকালীন ও প্রশিক্ষণ পরবর্তী সাপোর্ট প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য এক অনবদ্য ও যুগোপোযোগী প্রশিক্ষণবান্ধব ব্যবস্থা বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : আইইউটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির শপথ গ্রহণ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন