সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন মোট ২০ জন প্রার্থী। এর মধ্যে নির্ধারিত ন্যূনতম ভোট না পাওয়ায় ১৪ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন পাঁচবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্যও, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রচলিত বিধান অনুযায়ী কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট আসনের মোট বৈধ ভোটের অন্তত এক অষ্টমাংশ (১২ দশমিক ৫ শতাংশ) ভোট না পেলে তার জামানত ফেরতযোগ্য থাকে না। সেই নিয়ম অনুসারেই জেলার অধিকাংশ প্রার্থী নির্ধারিত ভোটসংখ্যা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী খাদেমুল ইসলাম।
ঠাকুরগাঁও-২ (বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর ও রাণীশংকৈলের একাংশ) আসনে সাতজন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন গণঅধিকার পরিষদ-এর ফারুক হাসান, জাতীয় পার্টি-এর নুরুন নাহার বেগম, এবি পার্টি-এর নাহিদ রানা, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ-এর রেজাউল ইসলাম এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-এর সাহাবউদ্দিন আহমেদ।
ঠাকুরগাঁও-৩ (পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল) আসনে দশজন প্রার্থীর মধ্যে আটজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এ তালিকায় রয়েছেন পাঁচবারের সাবেক সাংসদ ও জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। এছাড়াও জামানত হারিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদ-এর মামুনুর রশিদ, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আল আমিন, সুপ্রিম পার্টি-এর আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-এর প্রভাত সমির শাহাজাহান আলম, বাংলাদেশ মাইনোরিটি পার্টি-এর কমলা কান্ত রায়, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-এর এস এম খলিলুর রহমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আশা মনি।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ওয়ালিউল্লাহ জানান, বৈধ ভোটের এক অষ্টমাংশের কম পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। তিনি বলেন, জেলায় ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে যারা নির্বাচন করেছেন তারা বাদে অন্য প্রার্থীদের জামানত ফেরতযোগ্য হয়নি।
এই ফলাফল স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বড় রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে ছোট ও নতুন দলগুলোর প্রার্থীরা ভোটের লড়াইয়ে শক্ত অবস্থান গড়তে পারেননি। বিশেষ করে একাধিকবার নির্বাচিত অভিজ্ঞ প্রার্থীর জামানত হারানো ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই চিত্র তাই শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়, বরং জেলার রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও বহন করছে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

