১৫/০১/২০২৬, ২২:৪১ অপরাহ্ণ
18 C
Dhaka
১৫/০১/২০২৬, ২২:৪১ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

নাটোরের রাসেল হোসাইনের মানবিক রেমিট্যান্স কর্মসূচি

আমেরিকার ওকলাহোমা থেকে পাঠানো রেমিট্যান্স কেবল পরিবারের জন্য নয়—মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর এক মহান ব্রত হয়ে উঠেছে রাসেল হোসাইনের জীবনে। দেশের গরীব, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের সন্তান ও ওকলাহোমা প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাসেল হোসাইন।

প্রায় এক যুগ ধরে প্রবাসে থাকলেও দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসায় ভাটা পড়েনি তার। বরং সময় যত গড়িয়েছে, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অদম্য ইচ্ছাই তাকে পরিণত করেছে এক মানবিক কর্মযোদ্ধায়। নিজ উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারে গড়ে তুলেছেন দুটি বড় শপিংমল, যেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৫০ জন বেকার তরুণ-তরুণীর।

তবে রাসেল হোসাইনের সবচেয়ে বড় অবদান—এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় পাঁচ শতাধিক অসহায় মানুষকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য। চিকিৎসার অভাবে যেখানে থেমে যেত জীবনযুদ্ধ, সেখানে তিনি হয়েছেন ভরসার নাম। আর্থিক অনটনে পড়াশোনা থেমে যাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়তে সহযোগিতা করেছেন নিরবচ্ছিন্নভাবে।

সম্প্রতি গুরুদাসপুর পৌর এলাকার ক্যান্সার আক্রান্ত রঞ্জনা রানীর চিকিৎসার জন্য তিনি দিয়েছেন নগদ ৬ লাখ টাকা। বিধবা সুকজান বেওয়া ও আমেনা বেগমের চিকিৎসায় খরচ করেছেন ১ লাখ টাকা। দুর্ঘটনায় পঙ্গু হওয়ার পথে থাকা কৃষক বুদ্দু মিয়ার চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভারও তিনিই বহন করেন।

অন্যদিকে, ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান চুরি হয়ে গিয়ে দিশেহারা সাগর হোসেনকে উপহার দিয়েছেন নতুন একটি ভ্যান, যার মাধ্যমে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে তার পরিবার।
রঞ্জনা রানি বলেন, “মৃত্যুর প্রহর গুনছিলাম, রাসেল ভাইয়ের সহায়তায় আবার চিকিৎসা শুরু করতে পেরেছি। তার মতো মানুষ না থাকলে হয়তো আমি আজ বেঁচে থাকতাম না।”
কৃষক বুদ্দু মিয়া বলেন, “পা কেটে ভেঙে গিয়েছিল, অর্থের অভাবে চিকিৎসা হচ্ছিল না। রাসেল ভাইয়ের সহায়তায় সুস্থ হয়ে উঠছি। হয়তো শিগগিরই আবার কাজে ফিরতে পারব।”

সাগর হোসেন বলেন, “আমার জীবিকার একমাত্র ভ্যানটি চুরি হয়ে গেলে সব কিছু অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। রাসেল ভাই পাশে না দাঁড়ালে আজ আমি হয়তো পথের ভিখারি হয়ে যেতাম।”
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক জামান সরকার বলেন,‘দেশের কোটি কোটি টাকার রেমিট্যান্স যেভাবে সমাজ বদলে দিতে পারে, রাসেল হোসাইন তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি প্রমাণ করেছেন—মানুষ চাইলে প্রবাস থেকেও হতে পারে মানুষের জন্য আশার আলো।’

রাসেল হোসাইন বলেন, “দেশের প্রতি ভালোবাসা আমার রক্তে। আগে সুযোগ ছিল না, এখন আল্লাহ দিয়েছেন সেই সামর্থ্য। আমি যতদিন বেঁচে থাকবো, ততদিন এই মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবো। কারণ, আমার একটু সহযোগিতায় যদি কারো জীবন বদলে যায়—তাতেই আমার শান্তি।”

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার পেলেন নাটোরের ফজলে রাব্বী

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন