উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়ে ফুলছে কাপ্তাই হ্রদ। গত মঙ্গলবার রাত থেকে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ে বা জলকপাট দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হলেও ক্রমশ বাড়ছেই হ্রদের পানি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চতুর্থ দফায় বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৩ ফুট থেকে সাড়ে ৩ ফুট খোলা হয়েছে জলকপাট।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ে দিয়ে ৬৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের ৫টি ইউনিট দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে আরও ৩২ হাজার কিউসেক নিষ্কাশন হচ্ছে। সব মিলিয়ে ১ লাখ কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হয়ে কর্ণফুলী নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিলছে। হ্রদে বর্তমানে ১০৮ দশমিক ৮৩ এমএসএল পানি রয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ ধারণ সক্ষমতা ১০৯ এমএসএল।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক সহকারী প্রকৌশলী মো. তারেক আহমেদ জানান, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে গেটসমূহের ওপেনিং সাড়ে ৩ ফুট করা হয়েছে। এতে স্পিলওয়ের মাধ্যমে ৬৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে৷’
এদিকে, গত মঙ্গলবার থেকে কাপ্তাই বাঁধ দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হলেও বৃহস্পতিবার কর্ণফুলী নদীতে স্রোতের তীব্রতা বাড়ায় এদিন সকাল থেকে চন্দ্রঘোনা ফেরি চলাচল বন্ধ রেখেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ)। এতে করে সরাসরি বান্দরবানের সঙ্গে রাঙামাটি জেলার যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে বিকল্প পথ হিসেবে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার গোডাউল এলাকা দিয়ে মানুষ যাতায়াত করছে।
রাঙামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, কর্ণফুলী নদীতে স্রোতের তীব্রতা বাড়ায় চন্দ্রঘোনা ফেরি চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। স্রোতের তীব্রতা কমলে ফেরি চলাচল শুরু হবে।
পড়ুন: খুলে দেয়া হলো রাঙামাটির কাপ্তাই বাঁধ
এস/


