১৪/০২/২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
23 C
Dhaka
১৪/০২/২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

নানা রোষানল কাটিয়ে আলোর দিশারী স্বপন মাহমুদ

শুধুমাত্র জনসেবা করতে গিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় বিভিন্ন সময়ে তথ্য সন্ত্রাসসহ রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক নানা রোষানলে পড়লেও চাঁদপুর সদরের শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে আলোর দিশারী স্বপন মাহমুদ। বিএনপি’র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এক সময়ের তুখুর এই ছাত্রনেতার ইচ্ছে জীবনের বাকি সময়টাও তার ইউনিয়নের অসহায় নিপীড়িত মানুষের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করা।

১৩ আগষ্ট বুধবার এক সাক্ষাৎকারে স্বপন মাহমুদ জনমানুষের জন্য কাজ করার নিজের আগ্রহের চিন্তাধারা তুলে ধরেন।

তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, জিয়ার আদর্শে অনুপ্রনিত হয়ে ১৯৯৬ সালে ছাত্রদলে সম্পৃক্ত হয়ে রাজনীতিতে হাতেঁখড়ি হয় স্বপন মাহমুদের। এরপর যুবদলে যুক্ত হলে এক প্রতিহিংসামূলক মামলায় কারাবরন করেন ২৭ দিন। ১৯৯৮ সালে তিনি ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে চাঁদপুর সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাংগঠনিক অবস্থানে শক্তিশালী হওয়ায় ২০১১ সালে তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিলে জনগণের বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে চাঁদপুর জেলাতে শ্রেষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি একের পর এক মামলা, হামলা এবং বহিষ্কারের শিকার হন। মহামায়া বাজার মসজিদের পুকুর দখল সংক্রান্তে এক প্রতিবাদের জন্য তিনি তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের পরাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির রোষানলে পড়েন। ২০১৬ সালে এক রাজনৈতিক গণমিছিলে বিজিবির গুলিতে যুবদল নেতা ফারুক পাটওয়ারী গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। কিন্তু সেই হত্যার মামলাতেও তিনি হন ১নং আসামী।

২০১৭ সালে তাকে ১নং ক্রসফায়ার তালিকাভুক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১০ দিনের রিমান্ডে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ৩ মাস কারাভোগ করার পর শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্ত হন। ২০১৮ সালে জেলে থাকা অবস্থাতেও জনগণের বিপুল ভোটে পুণরায় শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার এই জনপ্রিয়তার কারনে পেট্রোল বোমা, গাড়ী পোড়ানো, হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ২৭টি মামলা জড়িয়ে নানা সময়েই তিনি কারাগারে যান। তবুও দমে না যাওয়া এই মানুষটি ২০১৯ সালে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি এবং চাঁদপুর সদর থানা বিএনপি’র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পান। স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও সিসি ক্লিনিক কার্যক্রমে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় ২০২০ সালে তিনি চাঁদপুর জেলাতে ‘শ্রেষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান’ নির্বাচিত হন।

স্থানীয়রা বলেন, এই অঞ্চলে একটা সময় ছিলো রাজপথে বিএনপির নাম নিলেও জীবন সংকটাপন্ন হতে হতো। সেই অবস্থা হতে স্বপন মাহমুদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তৃণমূল পর্যায় হতে মূল দল এখন এই ইউনিয়নে সুসংগঠিত। দুষ্কৃতিকারী ও সমাজে শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের সাথে ন্যায় ও নীতির প্রশ্নে আপোষহীন থাকায় স্বপন মাহমুদ বরাবরই তথ্য সন্ত্রাসসহ রাজনৈতিক রোষানলে পড়েছেন। তবুও মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় তিনি অপ্রতিরোধ্যভাবেই জননেতা হতে জনসেবক হিসেবে ইউনিয়ন বাসীর হৃদয়ের মনিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন। তাই এই মানুষটির হাতেই এই ইউনিয়নে দল ও সাধারণ মানুষ নিরাপদ বলে আমরা মনে করি।

জানা যায়, স্বপন মাহমুদের পরিবারে স্ত্রী, দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে। একমাত্র পুত্র সন্তান রয়েছে প্রবাসে। গেলো ১৭ বছরে আওয়ামী শাষনামলে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যবসায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে তিনি তার পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রিসহ নানাভাবে রাজনৈতিক মামলা পরিচালনা করেন এবং বর্তমানে ভাড়াবাসায় বসবাস করছেন।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে চাঁদপুর সদরের বিএনপি নেতা ও শাহমাহমুদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদ বলেন, বর্তমান সময়ে তথ্য সন্ত্রাসের জন্য অনেক জনদরদী নেতাও সামাজিকভাবে ভুলভাবে মানুষের কাছে উপস্থাপিত হন। তবে রাজনৈতিক ও এলাকার সচেতন মানুষরাই এসব ক্ষেত্রে আমার চলার পথের অনুপ্রেরণার উৎসাহ উদ্দিপনা দিয়ে মনোবল চাঙ্গা রাখেন। গেলো ৫ আগষ্ট হতে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতা শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক ভাইয়ের নির্দেশে এই ইউনিয়নে চাঁদাবাজি ও লুটপাট এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে আমি দলীয় দূর্গ গড়ে তুলি। এতে করে মানুষের যানমাল রক্ষার পাশাপাশি ইউনিয়নটিতে আইন-শৃঙ্খলাও রয়েছে স্বাভাবিক পরিবেশে।

স্বপন মাহমুদ বলেন, আমি বরাবরই মানুষের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করতে পছন্দ করি। কাজেই অতীতে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও চেয়ারম্যান হয়েও অনেক কাজই বিরোধী দলের হওয়ায় আমি করতে পারিনি। তবে সময়ের পরিবর্তনে মানুষ এখন আমার মতোই স্বাধীন ও উন্মুক্ত পরিবেশে জীবন যাপন করছে। তাই ভবিষ্যতে এই ইউনিয়নে আমি দলের হয়ে পুনরায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে নিজের কাজের মনমানসিকতার ইচ্ছে শক্তিকে ফুটিয়ে তুলতে চাই। এজন্য আমি সবার কাছে দোয়া চাই। যাতে করে সমাজের প্রতিটি মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে দুষ্ট চক্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আমি সবাইকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যেতে পারি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন: চাঁদপুর সিটি কলেজের একাডেমিক স্বীকৃতি স্থগিত করে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ

এস/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন