33.3 C
Dhaka
০৩/০৩/২০২৬, ১৭:০৫ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

দেশ বরেণ্য আলেম ত্রিশালের সাবেক এমপি রুহুল আমিন মাদানীর নামাজে জানাজা সম্পন্ন

গভীর শোক ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে দেশ বরেণ্য আলেম সাবেক এমপি ও ত্রিশালের উন্নয়নের রূপকার খ্যাত হাফেজ মাওলানা রুহুল আমিন মাদানীকে বিদায় জানালো। বুধবার ৩টায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের চকপাঁচপাড়া ও কারিগরি বানিজ্যিক কলেজ মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে সম্পন্ন।

গত ১২ আগস্ট মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকার ইউনাইটেড প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তার মৃত্যুতে ত্রিশাল তথা বৃহত্তর ময়মনসিংহের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি শুধু একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, বরং ছিলেন এক জনদরদী নেতা, যিনি তার কর্মের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন।

১৯৫২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ত্রিশাল উপজেলার ত্রিশাল ইউনিয়নের সতেরপাড়া গ্রামে সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । রুহুল আমিন মাদানী ছিলেন জ্ঞানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

তিনি আরবি শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, আরবি, উর্দু ও ফারসি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন এবং পবিত্র কোরআনের হাফেজ ছিলেন।

পাকিস্তানের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাজিল এবং সৌদি আরবের মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণীতে তাফসীর বিভাগে মাষ্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন।

এছাড়াও তিনি বিদেশ থেকে দাওরায়ে হাদীস (মুহাদ্দিস) বিষয়ে ডাবল ডিগ্রি অর্জন করে তার প্রজ্ঞা ও মেধার পরিচয় দেন।

তার রাজনৈতিক জীবন ছিল সাফল্য ও জনসেবায় ভরপুর। ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি ত্রিশাল থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৯৬ সালে এমপি থাকাকালীন তিনি ত্রিশালের রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজের ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করে স্থানীয় অবকাঠামোর চিত্র পাল্টে দেন। এই ৫ বছরের শাসনামলে তিনি ‘উন্নয়নের রূপকার’ হিসেবে জনগণের কাছে পরিচিতি লাভ করেন।

পরবর্তীতে দলীয় কোন্দলের কারণে তিনি মনোনয়ন না পেলেও, দলীয় প্রার্থীর জয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে দলের প্রতি তার আনুগত্যের প্রমাণ দেন।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আবারও নির্বাচিত হয়ে জনগণের ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিদান দেন।পরে তিনি ধর্মমন্ত্রনালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষাবিস্তারেও তার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি ত্রিশালের প্রথম কারিগরি উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান ‘ত্রিশাল কারিগরি ও বাণিজ্যিক কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট মেম্বার,নজরুল ডিগ্রি কলেজ, ত্রিশাল মহিলা কলেজ ও হাজী চেরাগ আলী কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

‘মাদানী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা ও ‘চক পাঁচপাড়া মাদ্রাসাকে প্রতিষ্ঠিত করে তিনি সমাজসেবায় তার দৃঢ় প্রতিশ্রুতির স্বাক্ষর রাখেন।

তার মৃত্যুতে শুধু একজন রাজনীতিবিদ নয়, ত্রিশাল হারালো একজন শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও মানবিক নেতাকে। তার কর্মের মধ্য দিয়ে তিনি যুগ যুগ ধরে মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন। মাদানীর প্রতিষ্ঠিত চক পাঁচপাড়ায় মাদরাসা মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ত্রিশালের সাবেক এমপি মাদানীর ইন্তেকাল

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন