নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হলে গণতন্ত্র ভয়ঙ্কর হুমকির মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
বুধবার (১৩ আগস্ট) চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার উত্তর সাতকানিয়া রসুলাবাদ কালিয়াইশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় মানবিক সংগঠন ‘আমরা বিএনপি পরিবার′ কর্তৃক আর্থিক সহায়তা,চিকিৎসা সহায়তা ও অসহায় পরিবারকে অটোরিকশা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব বলেন তিনি।
রিজভী আহমেদ বলেন, ১৬ বছরের স্বৈরাচার শেখ হাসিনার জুলুম নির্যাতনের স্বীকার হওয়া ব্যক্তিদের সহায়তা প্রদান করতে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমরা বিএনপি পরিবার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ১২ বছর আগে।
২০২৪ এর ৫ আগস্টের আগে একটা দানবীয় রাষ্ট্র গঠিত হয়েছিল।আওয়ামী লীগ,শেখ হাসিনার পরিবার যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ স্বৈরাচারের দোষরেরা দেশকে এমনভাবে দখল করে রেখেছিল যেন এইদেশ আর কারোনা তাদেরই।শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাজিয়েছিলেন ছাত্রলীগ গুন্ডালীগ দিয়ে তাই তাদের ভিতর ছিলনা কোন আইনের শাসন।বিএনপির লোকজন ১৬টি বছর ১ মাস পুরো ঘরে থাকতে পারেনি, ৩/৪দিন পরে গ্রেফতার হতে হয়েছে অনেকের নেতাকর্মীদের স্থায়ী ঘর ছিল কারাগারের লালঘর।
বিএনপির মুখপাত্র আরও বলেন,৫ আগস্ট দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে তাতে ছাত্রদের বিরাট অবদান।তারা কোটাবিরোধী আন্দোলনকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রপান্তর করেছিল অবদান অস্বীকার করছিনা।আসল আন্দোলন করেছিল ববএনপি ১৬ বছর ধরে।১৬ বছর গুম,খুন বিচারহীনতার বিরুদ্ধে লড়েছেন বিএনপি।তারা ভোটারবিহীন রাজ্য বানিয়েছিল শেখ হাসিনা।২০১৮ সালের নির্বাচন ছিল আমি আর মামুর নির্বাচন।এসময় তিনি আরও বলেন,গতকাল এনসিপির এক নেতা শেখ হাসিনার সুরে বলেছেন নির্বাচন হতে দিবেনা।তিনি আরও পরিপক্বতার পরিচয় দিতে পারতেন।বিএনপি করতে গিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস আলীসহ অনেকেই গুম হয়েছে খুন হয়েছে প্রাণ হারিয়েছে, অসংখ্য নেতাকর্মীর লাশ মিলেছে খাল নালাতে এরা সবাই গণতন্ত্রের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন।সারাদেশে যে মব কালচার চলছে সেটা প্রতিরোধ করার দায়িত্ব সরকারের মন্তব্য করে রুহুল কবির রিজভী এসময় আরও বলেন,কেউ অন্যায় করলে আইন হাতে তুলে নিতে পারেনা কেউ প্রশাসন ছাড়া।এগুলোর বিচার করবে নির্বাচিত সরকার,জনপ্রতিনিধিরা।নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হলে গণতন্ত্র ভয়ঙ্কর হুমকির মধ্যে পড়বে।
নির্বাচনটা হলে নির্বাচিত সরকার পারবে এসব বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ভালো করতে।অর্থ উপদেষ্টা আজ প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় দেশের অস্তিত্বহীন ব্যাংকগুলোকে উন্নয়নেনকাজ করছে সাধুবাদ জানায়।আজ ৪০০ গার্মেন্টস থেকে প্রায় ১ লাখ শ্রমিক চাকুরিচ্যুতি হয়েছে। কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারের উচিত পরিস্থিতি বিবেচনায় ত্বরিত ব্যবস্থা নেওয়া। যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছিলেন আমরা বিতর্ক করব,মতবিরোধ থাকবে কিন্তু গণতান্ত্রিক শক্তি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ন্যায়ের বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধ থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য বিএনপির নির্বাহী কমিটির বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিষ্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন,তারেক রহমানের মানবিকতার গুণে ১২ বছর ধরে কাজ করে আসছেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার′। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুম,খুন,ও রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র মামলা হামলার স্বীকার তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা পৌছে দিচ্ছেন সংগঠনটি। যদি বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে তাহলে এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিবেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি আমরা বিএনপি পরিবারের আহবায়ক আতিকুর রহমান রুম্মন বলেন,বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে আসবেন সবাই শুনেছেন,তিনি কিন্তু আগের রুপে ফিরবেননা তিনি নতুন ধারায় রাজনীতি শুরু করবেন নতুন রুপে।তাই রাজনীতি করতে হবে সুশৃঙ্খলভাবে। আমরা বিএনপি পরিবার যেই কাজটি করবেন সেটাও একটি রাজনীতি।তারেক রহমান যেই রাজনীতি শুরু করবেন তা হচ্ছে মানবসেবার রাজনীতি।
মানবিক এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, আবুল কাশেম, সংগঠনটির সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি।
এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, মুজিবুর রহমান, সাইফুদ্দিন সালাম মিঠু,চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম,রাজীব জাফর চৌধুরী,মেহেদী হাসান সুজন,ফৌজুল কবির ফজলু,চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল নেতা ইকবাল হোসেন, সালাহউদ্দিন আলী, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক ফখরুল ইসলাম শাহীন, মহানগর ছাত্রদলের সদস্য আল মামুন সাদ্দাম,দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল নেতা ইসমাঈল বিন মনির, তারেক রহমান প্রমুখ।
′′আমরা বিএনপি পরিবার′′ এসময় চন্দনাইশ হাশিমপুরের যুবদল নেতা মরহুম মোহাম্মদ ইউসুফের পরিবারকে একটি অটোরিকশা প্রদান করা হয় এবং ওই পরিবারের তিন বছর বয়সী শিশু মোহাম্মদ রায়হান (হার্টে ছিদ্র) এবং এগারো বছর বয়সী শিশু মোহাম্মদ আরাফাতকে (থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত) চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে আহত জুলাইযোদ্ধা আজিজ নূরকে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়।
পড়ুন : একটি গোষ্ঠী বিভ্রান্তি ছড়িয়ে নির্বাচনকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র করছে: রিজভী


