জয়পুরহাট সরকারি কলেজ শাখা (জসক) ছাত্রদলের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৩টায় কলেজ চত্ত্বর এলাকায় কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও সকাল ১১টা থেকেই ছাত্রদলের একটি পক্ষ মূল ফটক ও কলেজ এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। এরআগে বৃহস্পতিবার রাতে তারা কাউন্সিল আয়োজনের প্রতিবাদে শহরে মশাল মিছিল করেন।
ছাত্রদলের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাট সরকারি কলেজ শাখা (জসক) ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ২০২১ সালে গঠিত হয়। দীর্ঘ কয়েকবছর পর আজ ১৫ আগস্ট বিকেলে ৩টায় ওই কলেজে ছাত্রদল কমিটির কাউন্সিলের আয়োজন করার কথা রয়েছে। কাউন্সিলকে ঘিরে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ ৬ জন সহকারি নির্বাচন কমিশনারকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেওয়া দেওয়া কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের টিম-১৬ কে। ওই কলেজে যারা ছাত্রদলের ফরম নিয়েছেন তাদেরকে ভোটার করে প্রথমে ৫৪৬ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে ছাত্রদলের কয়েকজনের নাম না থাকার অভিযোগ তোলা হয়। পরে সেটি সংশোধন করে ৫৫৩ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তবে এক পক্ষের অভিযোগ, কাউন্সিলে একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দিতে আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রদলের কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সাগর চৌধুরী ও আহাদ হোসেনের নেতৃত্বে কলেজ ছাত্রদলের একটি পক্ষ সকাল ১১ টায় কলেজের মূল ফটকে অবস্থান নিয়েছে। তারা কাউকে কাউন্সিলে প্রবেশ করতে দেবে না বলে জানিয়ে দেয়। এসময় তারা ‘অবৈধ কাউন্সিল, মানি না- মানবো না’, ‘বয়কট বয়কট, টিম-১৬ বয়কট’, ‘একতরফা কাউন্সিল, মানি না-মানবো না’, ‘অর্থের বিনিময়ে কাউন্সিল, মানি না- মানবো না’, বলে স্লোগান দেন। এই কাউন্সিল ঘিরে কলেজ এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
জয়পুরহাট সরকারি কলেজের আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সাগর চৌধুরী বলেন, তারা এক পক্ষের হয়ে কাজ করছে। এখানে যাদের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে তারা সুবিধাবাদী একটি পক্ষ। আমরা যারা ছাত্রদলের প্রকৃত নেতাকর্মী তাদের বাদ রাখার জন্য এই কাউন্সিল করা হচ্ছে। প্রথম ভোটার তালিকায় আমাদের কয়েকজনের নাম রাখা হয়েছিল না। পরে আবার নাম যুক্ত করে দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের আরও যারা কর্মী আছে, তাদের নাম ভোটার তালিকায় রাখা হয়নি। আমরা এই কাউন্সিল মানি না। আজকে সারাদিন কলেজে অবস্থান করা হবে। যারা কাউন্সিল করতে আসেব, তাদের প্রতিহত করা হবে।
কাউন্সিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে রয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা থেকে দুই-একজন বাদ পড়েছিল। তাদেরকে পরে ভোটার তালিকায় যোগ করা হয়েছে। আর গতকাল রাতে যারা মশাল মিছিল করেছে সেখানে অধিকাংশ বাহিরের ছেলে ছিল, তারা ওই কলেজের শিক্ষার্থী না। সেসময় সারাদেশে ১০ দিন সময় ছিল ফরম বিতরণ করার, ওই সময়ের মধ্যে কলেজের নেতাকর্মীরা সদস্য ফরম বিতরণ করেছিল। একইভাবে জয়পুরহাট সরকারি কলেজেও ফরম বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু বাহিরের কিছু ছেলে গতকাল মিছিল করেছিল। আমাদের নিয়মের মধ্যে যে প্রক্রিয়া আছে, সবগুলো শেষ করেই কাউন্সিলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আজকের কাউন্সিলে মোট ভোটার ৫৫৩ জন। আর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৬ থেকে ৭ জন প্রার্থী হতে পারে। এটি আমাদের কার্যক্রম শুরু হলে জানা যাবে।
পড়ুন: বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জয়পুরহাটে দোয়া মাহফিল
এস/


