বিজ্ঞাপন

৭২ ঘন্টার মধ্যে আখাউড়ার দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টের অনিয়ম-দূর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বেলা ১১টায় আখাউড়ার সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের আয়োজনে পৌর মুক্তমঞ্চের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে আখাউড়া প্রেসক্লাব, টেলিভিশন জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন, রিপোটার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, সাংবাদিক কল্যাণ সোসাইটির সাংবাদিকেরা অংশ নেয়। এছাড়াও মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, ঐক্যবদ্ধ আখাউড়া, ইনসানিয়াত বিপ্লবসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধন থেকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, ইমিগ্রেশন ওসি মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার ও আখাউড়া থানার ওসি মো. ছমিউদ্দিনের প্রত্যাহার এবং দৈনিক যুগান্তর ও আরটিভিতে প্রকাশিত ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টের অনিয়ম-দূর্নীতির সংবাদের সুষ্ঠ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার তিন দফা দাবী জানানো হয়।

আখাউড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহাদাত হোসেন লিটনের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মনসুর মিশন, পৌর জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি আব্দুর রহমান কাশগরি, সাবেক পৌর কাউন্সিলর মোঃ মন্তাজ মিয়া, দৈনিক যুগান্তরের জেলা প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের আখাউড়া শাখার সভাপতি আফজাল খান শিমুল, এনসিপির প্রতিনিধি আসিফ নেওয়াজ, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের প্রতিনিধি শওকত চৌধুরী, দৈনিক দেশরূপান্তরের বিজয়নগর উপজেলা প্রতিনিধি এস. এম. জহিরুল ইসলাম টিপু প্রমুখ। মানববন্ধনে সঞ্চালনা করেন আখাউড়া প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কাজী হান্নান খাদেম।

বক্তারা দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পুলিশ কর্তৃক মামলার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পন। তারা অন্যায়-অনিয়ম, সফলতা, সম্ভাবনা, জনদুর্ভোগ ইত্যাদি বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদে সমাজ ও দেশের কল্যাণ বয়ে আনে। আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টের অনিয়মের সংক্রান্ত সংবাদে ইমিগ্রেশন ওসির যদি কোন আপত্তি থাকে তাহলে তিনি সংশ্লিষ্ট পত্রিকায় প্রতিবাদ পাঠাতে পারতেন বা প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ দিতে পারতেন। তা না করে সাংবাদিকের নামে মামলা দেওয়া এবং তদন্ত ছাড়াই দ্রুত মামলা নথিভূক্ত (এফআইআর) করা অনভিপ্রেত উদ্দেশ্যমূলক। এটি সাংবাদিকদের কন্ঠরোধ করার অপপ্রয়াস।

বক্তারা আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের বাঁধা সৃষ্টি করে রাখা হয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানের পরও যদি ফ্যাসিবাদি কায়দায় সাংবাদিকদের টুঁটি চেপে ধরার চেষ্টা অব্যাহত থাকে তাহলে প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা পার পেয়ে যাবে। তখন তারা বিনা বাঁধায় দূর্নীতি অনিয়ম করবে। এতে সাধারণ মানুষ পদে পদে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হবে। বক্তারা অবিলম্বে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান। ।

উল্লেখ্য যে, ৭ আগষ্ট দৈনিক যুগান্তর ও আরটিভির অনলাইনে ইমিগ্রেশন চেকপোষ্ট ইনচার্জসহ কয়েকজন পুলিশের অনিয়ম-দূর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এরপর আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার বাদী হয়ে দৈনিক যুগান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক ফজলে রাব্বি ও আরটিভির আখাউড়া উপজেলা প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে গত ১২ আগষ্ট আখাউড়া থানায় চাঁদাদাবী ও মানহানির অভিযোগ এনে মামলা করেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ ভাই-বোন আটক

এস/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন