১৪/০১/২০২৬, ৩:০১ পূর্বাহ্ণ
18 C
Dhaka
১৪/০১/২০২৬, ৩:০১ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

সাপের কামড়ে মৃত ছেলেকে বাঁচাতে ওঝার অপেক্ষায় স্বজনরা, ওঝা এসে মৃত্যু ঘোষণা

মাদারীপুরে সাপে কামড়ে সাদ্দাম চৌকিদার(২৮) নামের এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে অদ্ভুত কান্ড! চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণার পরে বাড়িতে এনে গোসল শেষে জানাজা দেয়ার মুহূর্তে হঠাৎ ফোন আসে এক ওঝার।এরপরে মৃত যুবকের দেহে প্রাণ আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে সাপের কামড়ের স্থানে ওঝা ধরতে বলে একটি জীবিত মুরগীর বাচ্চা। একে একে পাঁচটি মুরগির বাচ্চা সাপের কামড়ের স্থানে ধরলে সবগুলোই মারা যায়। এতে স্বজনদের মধ্যে নতুন করে আশা জাগলেও শেষ পর্যন্ত ওই ওঝাই যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।এরপর থেকেই এলাকায় সৃষ্টি হয় চাঞ্চল্য।

শুক্রবার(১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার খোয়াজপুর চরগোবিন্দপুর মাঝকান্দী এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। নিহত সাদ্দাম চৌকিদার ওই এলাকার জলিল চৌকিদারের ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে বাড়ির কাছে কাজ করার সময় সাদ্দামকে একটি বিষাক্ত সাপে দংশন করে। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরন করেন। ঢাকায় নেওয়ার পর কেরানীগঞ্জ একটি প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এরপর পরিবারের সদস্যরা সাদ্দামের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে এসে দাফনের জন্য গোসল সম্পন্ন করেন। জানাজার প্রস্তুতি নেওয়ার মুহূর্তে হঠাৎ এক ওঝা ফোনে স্বজনদের জানান, সাদ্দামের দেহে এখনো প্রাণ থাকতে পারে। তিনি পরামর্শ দেন, সাপের কামড়ের জায়গায় একটি মুরগির বাচ্চা ধরলে যদি সেটি মারা যায়, তবে বুঝতে হবে রোগী জীবিত আছে।ওঝার এই অবিশ্বাস্য পরামর্শে আঁকড়ে ধরেন স্বজনরা। জানাজা ও দাফন স্থগিত করে তারা একে একে পাঁচটি মুরগির বাচ্চা সাদ্দামের কামড়ের স্থানে ধরেন। আশ্চর্যজনকভাবে, পাঁচটি বাচ্চাই একে একে মারা যায়। এই ঘটনায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং সাদ্দাম বেঁচে আছে—এমন আশা নিয়ে তারা ওঝার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।খবর পেয়ে সেই ওঝা ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি বেশ কিছুক্ষণ সাদ্দামের মরদেহ পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে অবশেষে জানান, সাদ্দাম আর বেঁচে নেই, তিনি মারা গেছেন। তার এই ঘোষণার পর পরিবারের সব আশা শেষ হয়ে যায়।ওঝার চূড়ান্ত ঘোষণার পর শুক্রবার রাতেই সাদ্দাম চৌকিদারের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

স্থানীয় বেশ কয়েকজনের জানান,এটি একটি কুসংস্কার, মৃত্যু ব্যক্তি কখনো কি জীবিত হতে পারে, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত্যু ঘোষণা করছে।সেখানে সে কিভাবে জীবিত হতে পারে। আমরা এই ওঝার বিচার চাই।

নিহত ছেলের বাবা জলিল চৌকিদার বলেন, আমরা প্রথম ওঝার কথা বিশ্বাস করিনি, পরে বলছে, যেহেতু মুরগির বাচ্চা মারা গেছে তার দেহে প্রাণ। তারপরে ও চায় সে কি করছে আর আমরা আর বুঝতে পারিনি।

হাফেজ মাওলানা জসিম উদ্দিন বলেন,এটি একটি কুসংস্কার এটি বেদাত, এ সকল কাজ ইসলাম নাজায়েজ করেছে, ওঝা যে কাজটি করেছে সে কাজটি অন্যায় করেছে।মৃত্যু ব্যক্তি কখনো জীবিত হতে পারে না।

এরকম চাঞ্চল্যকর বিষয়ে তথ্য জানার জন্য মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ওসি মোহাম্মদ আদিল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : মাদারীপুরে ২ গ্রুপের সংঘর্ষে ইউপি সদস্য সহ নিহত ৩, আহত ২০

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন