রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় পাহাড় কাটার ঘটনায় উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শনিবার (১৬ আগস্ট) রাতে পাহাড় কাটার ঘটনায় বাঘাইছড়ি থানায় মামলাটি দায়ের করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের রাঙামাটি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মুমিনুল ইসলাম।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়পত্র গ্রহণ ছাড়াই টিলা/পাহাড় কর্তনের ঘটনায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০) এর ৬ (খ) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলার আসামি সুদর্শন চাকমা বাঘাইছড়ি উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের রূপকারী গ্রামের মৃত পূর্ণলাল চাকমার ছেলে। সুদর্শন চাকমা দুই দফায় বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে নির্দেশনার ভিত্তিতে জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইছড়ি থানা থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে পাহাড়টি সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনকালে দেখা যায়, প্রায় ৬০ হাজার বর্গফুট পাহাড়ের জায়গা কাটা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাক্ষ্য মতে জানা যায়, পাহাড়টির মালিক বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা। তার তদারকিতে পাহাড়টি কাটা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, পাহাড়টি কাটার ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন/পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ করা হয়নি। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ৬ (খ) ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে দণ্ডের ধারা ১৫ (১) মোতাবেক দণ্ডনীয় অপরাধ করায় আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী মামলা রুজু করার অনুরোধ করা হলো।
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ব্যতিরেকে টিলা অথবা পাহাড় কর্তন অপরাধে গতকাল (শনিবার) রাতে পরিবেশ অধিদপ্তর বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে এবং পরিবেশ অধিদপ্তর নিজেরাই মামলার তদন্ত করবে।
পড়ুন: রাঙামাটিতে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
এস/


