২৪/০২/২০২৬, ২৩:১৪ অপরাহ্ণ
25.1 C
Dhaka
২৪/০২/২০২৬, ২৩:১৪ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

সাবেক আইজিপি মামুন ট্রাইব্যুনালে, সাক্ষ্য দেবেন হাসিনার বিরুদ্ধে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

সোমবার (১৮ আগস্ট) সকালে তাকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।

এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান রয়েছে। আজ (১৮ আগস্ট) মামলার দশম সাক্ষী হিসেবে চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে এই মামলায় নয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

উল্লেখ, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন নিজে দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্য বিবরণ প্রকাশের জন্য অ্যাপ্রুভার হওয়ার আবেদন করেছিলেন। ট্রাইব্যুনাল-১ তার এই আবেদন মঞ্জুর করে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে তিনিই প্রথমবারের মতো আসামি হিসেবে ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নানা পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, আরবি প্রভাষক মো. আ. হালিম জানিয়েছেন, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে তর ছেলে নিয়োগ পেতে অধ্যক্ষকে তিনি পাঁচ লাখ টাকা ‘হ্যান্ড ক্যাশ’ দিয়েছেন। অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ পাওয়া অরিফুর রহমানের কাছ থেকেও ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত নৈশ প্রহরী মন্নানের ছেলে মো. মহসিনকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য ৪ লাখ টাকা নিয়েছেন অধ্যক্ষ। ল্যাব সহকারী পদে নিয়োগ পাওয়া দ্বীপ কুমার মিত্রের কাছ থেকেও নেওয়া হয়েছে ৬ লাখ টাকা।

এ ছাড়া নিজের এমপিওভুক্তির জন্য প্রভাষক আ. হালিম ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অধ্যক্ষের সোনালী ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দুই লাখ টাকা জমা দিয়েছেন বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অফিস সহকারী পদে আবেদনকারী সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে সিফাতুল্লাহ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, কারণ তিনি কোনো নোটিশই পাননি।

নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগ বাণিজ্যের প্রসঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত মন্নান কাঁদতে কাঁদতে তদন্ত কর্মকর্তাদের জানান, অধ্যক্ষের হাতে ইতোমধ্যেই ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন, আরও টাকা দিতে হবে বললেও তিনি সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলতে পারেননি।

শুধু তাই নয়, ২০১৫ সালে নিয়োগ পাওয়া ছয়জন শিক্ষকের ২০২২ সালে এমপিওভুক্তির সময়ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলো, মাদ্রাসার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মঠবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের নথি অনুযায়ী, ল্যাব সহকারী পদে আবেদনকারী পাঁচজন প্রার্থীর তালিকা পাঠানো হলেও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার তালিকায় সাতজনের নাম যোগ করা হয়। এর মধ্যে নয়ন কৃষ্ণ বালা ও ঝুমা মিত্রের নাম ‘অতিরিক্তভাবে’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, গবেষণাগার/ল্যাব সহকারী এবং নৈশ প্রহরীর বেতন-ভাতা স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট সকাল ১১টায় মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের কাছে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন: হাসিনা-কামালের বিরুদ্ধে চতুর্থ দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ আজ

এস/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন