সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ ২০২৫ শীর্ষক নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বেলা ১২ টায় বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
অনুষ্ঠানের চিফ কোর্ডিনেটর বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মোঃ আসিফ ইকবাল। উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান। অনসীন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ব্যবস্থাপক এ.কে.এম বাহাউদ্দিন জাকারিয়া।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের কর্মকর্তাবৃন্দ, অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংস্থার উর্ধ্বতন প্রতিনিধিবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সৈয়দপুর বিমানবন্দরের সহকারী সিকিউরিটি ইনচার্জ আফরোজা বেগম ও মাহবুব আলম।
প্রধান অতিথি বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এর চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক তাঁর বক্তৃতার শুরুতে সকল অংশীজনকে এই মহড়ায় অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের মহড়া কেবল দুর্বলতাগুলো শনাক্ত করতেই নয়, বরং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সম্মানিত যাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মহড়ার সফলতা সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এর মাধ্যমে যেকোনো অনভিপ্রেত ঘটনা দ্রুত ও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। অংশীজনদের প্রস্তুতি ও দক্ষতা প্রত্যক্ষ করে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, আজকের মহড়ায় যুক্ত প্রতিটি সংস্থা প্রশংসনীয় পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে। সমাপনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি সকলকে জাতীয় স্বার্থে আরও আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
বেবিচক চেয়ারম্যান আরও বলেন সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছে। রানওয়ে ওভারলে কাজের প্রায় ৭০% সম্পন্ন হয়েছে। নতুন এপ্রোন/ টারমার্ক নির্মাণকাজ সদ্য শেষ হয়েছে । পাশাপাশি প্রায় ১২,০০০ ফিট পেরিমিটার রোড সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি প্রায় ৩,০০০ ফিট কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এসবের পাশাপাশি অন্যান্য উন্নয়নমূলক কার্যক্রমও দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। এসব উন্নয়ন কার্যক্রম সম্মানিত যাত্রীদের জন্য আরও আরামদায়ক ও মানসম্মত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে এবং একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করে তুলবে।
মহড়ায় অংশগ্রহণ করে বেবিচক, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র্যাব, বাংলাদেশ পুলিশ, এপিবিএন, আনসার, Air Astra Limited, সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থা।
কর্তৃপক্ষ জানায়, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (ICAO)-এর Annex-17 Standard অনুযায়ী প্রতি দুই বছর অন্তর এ ধরনের মহড়া আয়োজন বাধ্যতামূলক। হাইজ্যাক, বোমা হামলাসহ নানাবিধ ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাই এবং অংশীজনদের প্রস্তুতি বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই মহড়ার আয়োজন করা হয়।
পড়ুন: রাঙামাটিতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে দুদকের অভিযান
দেখুন: কোটি টাকা লোপাটে জাড়িত ডিসি অফিসের দালাল চক্র |
ইম/


