১৫/০১/২০২৬, ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ
17 C
Dhaka
১৫/০১/২০২৬, ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

লোকসুর আর আধুনিকতার মেলবন্ধনে রফিকের সঙ্গীতযাত্রা

বাংলা গানের ভুবনে প্রতিনিয়তই আসছেন নতুন শিল্পীরা। কেউ থাকেন, কেউ বা মিলিয়ে যান সময়ের ভিড়ে। তবে যাঁরা নিজেদের আলাদা করে তুলতে পারেন, তাঁরাই টিকে যান শ্রোতার হৃদয়ে। এমনই একজন শিল্পী হচ্ছেন তরুণ কণ্ঠশিল্পী ও গীতিকার মোহাম্মদ রফিক। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি গড়ে তুলেছেন স্বতন্ত্র পরিচিতি। সমকালীন বাংলা গানে যেখানে জটিল সুর ও ভারী বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার বেশি দেখা যায়, সেখানে রফিক দাঁড় করিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ধারা— সরলতায় ভর করা সঙ্গীত।
রফিকের সঙ্গীতযাত্রা শুরু হয় ২০২৩ সালে। প্রথম প্রকাশিত তিনটি গান— সন্ধ্যা পাখি, হৃদয়ে গোপনে এবং হৃদয়টা সঁপে দিলাম— দিয়েই তিনি জানান দেন নিজের উপস্থিতি। এ গানগুলোতে উঠে আসে আকাঙ্ক্ষা, গোপন অনুভূতি আর নিবেদনের মতো বিষয়। প্রথম গান সন্ধ্যা পাখি শ্রোতার মনে এক ধরনের ভাবুকতার আবহ তৈরি করে। হৃদয়ে গোপনে প্রকাশ করে গোপন প্রেমের টানাপোড়েন, আর হৃদয়টা সঁপে দিলাম সরাসরি নিবেদনের বার্তা দেয়। তিনটি গান একসঙ্গে রফিকের গানের ভিত মজবুত করে। গানের কথার স্পষ্টতা ও সুরের সহজ ধারা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।
আজকের দিনে অনেক গানেই বাদ্যযন্ত্র ও সাউন্ড মিক্সিং এতটাই আধিপত্য বিস্তার করে যে গানের আসল কথা হারিয়ে যায়। কিন্তু রফিক শুরু থেকেই রেখেছেন ভিন্ন পথের সন্ধান। তাঁর সঙ্গীতায়োজন থাকে সীমিত ও পরিষ্কার, যেখানে কথার স্বচ্ছতা এবং সুরের কোমলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ কারণেই খুব অল্প সময়েই তিনি শ্রোতা-সমালোচকের নজরে আসেন।
এরপর ২০২৫ সাল রফিকের গানের ভুবনে নিয়ে আসে নতুন মাত্রা। এ বছর তিনি প্রকাশ করেন দুটি একক গান— মায়া ও শেষ বিকেলে। মায়াতে উঠে আসে মানুষের টানাপোড়েন ও আসক্তির গল্প, আর শেষ বিকেলে ম্লান বিকেলের চিত্রের ভেতর দিয়ে জীবনের সমাপ্তি ও আত্মচিন্তার কথা বলে। আগের গানের মতোই সহজ-সরল কথার ব্যবহার থাকলেও এ গানগুলোতে কিছুটা ভিন্নধর্মী সঙ্গীতায়োজন লক্ষ্য করা যায়, যা তাঁর সঙ্গীতচর্চায় পরিণতির ইঙ্গিত দেয়।
একই বছরে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ন্যান্সি-র সঙ্গে দুটি দ্বৈত গান রেকর্ড করেন রফিক— আছো তুমি ও নীল খামে। এসব গানে একক গানের চেয়ে ভিন্ন আঙ্গিক দেখা যায়। দুই শিল্পীর কণ্ঠে কথোপকথনের আবহ তৈরি হয়, যা প্রেমকেন্দ্রিক গানের আবেগকে আরও গভীর করে তোলে। এই সহযোগিতা প্রমাণ করে, রফিক শুধু একক শিল্পী নন, বরং যৌথ কাজেও তিনি নিজের স্বকীয়তা বজায় রাখতে সক্ষম।
বাংলা গানের জগতে বর্তমানে যে অতিরঞ্জন, জটিলতা ও ভারী প্রযোজনার দাপট, সেখানে রফিকের গানগুলো অনেকটাই ব্যতিক্রম। তাঁর গানে পাওয়া যায় সরল অনুভূতি, সহজবোধ্য কথামালা ও হৃদয়ছোঁয়া সুর। শ্রোতারা তাঁর গানে খুঁজে পান এমন এক আবেগ, যা কৃত্রিমতার আড়ালে ঢাকা পড়ে না।
তরুণ এই শিল্পীর যাত্রা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। তবে শুরুতেই তিনি যে ভিন্ন ধারা উপহার দিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে বাংলা সঙ্গীতাঙ্গনে এক নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত। শ্রোতা ও সমালোচকের প্রত্যাশা, আগামী দিনে মোহাম্মদ রফিক আরও পরিণত হয়ে বাংলা গানের ভুবনে স্মরণীয় কিছু গান উপহার দেবেন।
মোহাম্মদ রফিক বলেন, “সংগীতজীবনের শুরুটা আমার জন্য একেবারেই সহজ ছিল না। প্রথম দিকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আমার গানকে বৃহত্তর শ্রোতাদের সামনে নিয়ে যাওয়া। লোকসংগীতের ধারা আর আধুনিকতার ছোঁয়া একসঙ্গে মিশিয়ে গান তৈরি করলেও শুরুতে খুব বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারিনি। আরেকটা চ্যালেঞ্জ ছিল নিজের স্বকীয়তা ধরে রাখা। বাংলা ফোকের ভেতর নতুনত্ব আনতে গিয়ে অনেক সময় কথার গভীরতা আর সুরের আবেগ অটুট রাখা কঠিন হয়ে যেত। তবুও ধীরে ধীরে সেই বাধাগুলো কাটিয়ে উঠেছি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন: সুনামগঞ্জে আলোচিত বিজিবি আটককৃত ৯০ টি গরুর নিলাম স্থগিত-ফেসে যাচ্ছেন জিম্মাদার

দেখুন: ইসরায়েলকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডার হুশিয়ারি! এবার বদলাবে গাজা? |

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন