খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ৩ মাইল এলাকায় বসবাসরত এক অসহায়, গরিব ও নিঃসন্তান বৃদ্ধ দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অন্যের জমিতে ভাঙাচোরা একটি কুঁড়েঘরে বসবাস করা এই পরিবারটি সরকারের কোনো সুযোগ-সুবিধা থেকে এখনো বঞ্চিত রয়েছেন।
তাদের দুঃখ-কষ্টের সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক-এ ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসে ত্রিপুরা ঐক্য পরিষদের আহবায়ক ক্ষনি রঞ্জন ত্রিপুরা। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দিনব্যাপী উদ্যোগ নিয়ে ওই অসহায় দম্পতির জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণ করে দেন। পাশাপাশি এক মাসের খাবারও পৌঁছে দেন তাদের হাতে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিঃসন্তান এই বৃদ্ধ দম্পতি অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মাথা গোঁজার মতো একটি স্থায়ী ঘরের স্বপ্নও ছিল তাদের নাগালের বাইরে। খনিরঞ্জন ত্রিপুরার এই মানবিক উদ্যোগে তারা অন্তত কিছুটা স্বস্তি পেলেন।
বৃদ্ধ দম্পতি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, এতদিন তারা কষ্টে দিন কাটালেও কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। আজকের এই সহায়তা তাদের জীবনে আশার আলো জাগিয়েছে।
এসময় স্থানীয় বাসিন্দারাও ক্ষনি রঞ্জন ত্রিপুরাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষরা যদি এমনভাবে এগিয়ে আসেন তবে সমাজের আর কোনো অসহায় মানুষ অনাহারে-অর্ধাহারে কষ্ট পাবেন না।
ক্ষনি রঞ্জন ত্রিপুরা বলেন, এই পরিবারটি খবর আমরা ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারি। তারা খুবই অসহায়। তাদের কোনো সন্তান নেই। খবর নেওয়ার মানুষ বলতে একমাত্র প্রতিবেশি ছাড়া কেউ নেই। আমরা তাদের এমন অবস্থা দেখে নেতাকর্মীদের সাতে নিয়ে এসে তাদেরকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছি এবল এক মাসের খাবার ও পরনের কাপড় দিয়েছি। আশাকরি তারা এখন ভালোভাবে বসবাস করতে পারবে।
পড়ুন : খাগড়াছড়িতে কমলছড়ি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন


