২৪/০২/২০২৬, ১৯:২১ অপরাহ্ণ
27.9 C
Dhaka
২৪/০২/২০২৬, ১৯:২১ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করলেন মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে পদ থেকে সরানোর চেষ্টা করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আর সেটি চ্যালেঞ্জ করেই মামলা করেছেন তিনি। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে সম্ভাব্য আইনি লড়াই শুরু হতে পারে। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, কুক আদালতের কাছে ট্রাম্পের বরখাস্তের আদেশকে “অবৈধ ও বাতিল” ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন। মামলায় তিনি ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকেও বিবাদী করেছেন।

ট্রাম্পের অভিযোগ, কুক তার মর্টগেজ নথি নিয়ে ভুয়া তথ্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, সংবিধান অনুযায়ী তার কুককে সরানোর ক্ষমতা আছে। তবে কুক এর আগে বলেছেন, আইন অনুযায়ী তাকে বরখাস্ত করার “কোনও কারণ নেই”।

বিবিসি বলছে, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ফেডের ওপর চাপ বাড়িয়ে আসছেন। তিনি মনে করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমাতে অনীহা দেখাচ্ছে। আর কুক যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার নির্ধারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত বোর্ডের সদস্য।

বৃহস্পতিবারের এই মামলা জটিল আইনি প্রশ্ন তুলতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে। কুকের আইনজীবী অ্যাবে লোওয়েল মামলায় লিখেছেন, “এই মামলা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নজিরবিহীন ও বেআইনি উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জ করছে। যদি এটি কার্যকর হয়, তবে ফেড বোর্ডের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা হবে প্রথম।”

তিনি আরও বলেন, ফেডারেল রিজার্ভ আইন স্পষ্টভাবে বলছে, গভর্নরকে সরাতে হলে অবশ্যই ‘কারণ’ থাকতে হবে। অথচ সিনেট অনুমোদনের আগে ব্যক্তিগত মর্টগেজ আবেদন নিয়ে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেছেন, প্রেসিডেন্ট তার বৈধ ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন। তার ভাষায়, “একজন গভর্নরকে আর্থিক নথিতে মিথ্যা বলার অভিযোগের কারণে সরানো হয়েছে। এতে ফেড বোর্ডের জবাবদিহি ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়বে।”

আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ইচ্ছেমতো ফেড কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করতে পারেন না। তবে ‘কারণ থাকলে’ তা করার সুযোগ আছে।

কুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রথম আনেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আবাসন নিয়ন্ত্রক বিল পুল্টে। তার এক প্রকাশ্য চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, কুক মর্টগেজ সুবিধা নিতে নথি জাল করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে তিনি দুটি আলাদা অঙ্গরাজ্যের বাড়িকেই নিজের ‘প্রধান বাসভবন’ বলে ঘোষণা করেছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে কোনও আনুষ্ঠানিক মামলা হয়নি, তদন্ত চলছে কিনা তাও পরিষ্কার নয়।

কুকের দাখিল করা মামলায় এসব অভিযোগের উল্লেখ নেই। তিনি আগেই বলেছিলেন, তাকে সরানোর কোনও আইনগত কারণ নেই। বহু আইনি বিশেষজ্ঞও ট্রাম্পের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

ফেড বোর্ডে মোট সাতজন গভর্নর আছেন। ১২ সদস্যবিশিষ্ট যে কমিটি যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নির্ধারণ করে, তারা সেটিরই অংশ।

ট্রাম্প ওয়াশিংটনে ফিরে আসার পর থেকে বিশেষত চেয়ারম্যান পাওয়েলকে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন সুদের হার কমানোর জন্য। কুককে সরানো গেলে, ট্রাম্প তার জায়গায় এমন কাউকে বসাতে পারবেন যিনি সুদ কমাতে ও তার অর্থনৈতিক নীতিকে সমর্থন করবেন।

মূলত আমেরিকানদের ঋণের সুদের হার ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঞ্চয় হারে ফেডের সিদ্ধান্ত সরাসরি প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও মার্কিন সুদের হারের ওপর নজর রাখে।

গত জুলাইয়ের শেষ বৈঠকে কুক, পাওয়েল ও কমিটির অধিকাংশ সদস্য সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে ভোট দেন।

পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েল বিরোধী অবস্থানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সব দেশ

দেখুন: গাজার পথে ৬০ হাজার সেনা, ৪০ হাজার নিয়ে প্রস্তুত মিসরীয় সেনাদল!

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন