32.3 C
Dhaka
০৭/০৩/২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

টঙ্গীর জাবান হোটেলে ম্যানেজারসহ স্টাফদের মারধরের অভিযোগ

টঙ্গীর ৩ তারকা হোটেল জাবানে নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর ভোরে মদ বিক্রি না করায় ঔ হোটেলের ম্যানেজার আজিজ,অন্যান্য কর্মচারী ও সিকিউরিটি গার্ড ইসলামকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, টঙ্গী স্টেশন রোডে আমতলায় অবস্থিত জাবান হোটেলে দেশ বিদেশের বিভিন্ন নামি-দামি বায়ার আসা যাওয়া করে। বিদেশি ব্যবসায়ীরা গাজীপুর টঙ্গীর ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকার বিভিন্ন বড় বড় ফ্যাক্টরীর সাথে সম্পৃক্ত। এতে প্রতি নিয়ত সরকারের রেভিনিউ বাড়ছে। পাশাপাশি এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

গত ২৮ আগষ্ট বৃহষ্পতিবার ভোর আনুমানিক ৫টায় জাবান হোটেলে অবৈধভাবে প্রবেশ করে কর্মচারীদেরকে মারধর ও ক্যাশ লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

হোটেল কর্তৃপক্ষ জানান, উত্তরা থেকে ৬ জন পুরুষ ও একজন নারী বৃহস্পতিবার দিবাগত ভোর রাতে তাদের হোটেলে এসে এলোমেলো কথা বলতে থাকে। এ সময় তারা নাস্তা খাওয়ার কথা বলে হোটেলের ১০ তলা রেস্টুরেন্টে উঠে যায়।সেখান থেকে তারা ৯ তলার বার কাউন্টারে জোরপূর্বক ঢুকে গিয়ে ১ বোতল বিদেশি মদ চায়, হোটেল কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময়ের পর মদ এবং ৬জন পুরুষের সাথে একই রুমে ১জন নারীকে নিয়ে অবস্থানের অস্বীকৃতি জানান। এর পর তারা সংঘবদ্ধ হয়ে ম্যানেজার আজিজ ও অন্যান্য কর্মচারীদের বেদম মারধর করে ক্যাশ থেকে ১ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এঘটনায় জাবান হোটেলের আইটি ম্যানেজার মোঃ রাকিব হাসান বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, তিনি ডিএমপির কমিশনার অফিসে রয়েছে, তবে অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিবেন। জাবান হোটেল কর্তৃপক্ষের থানায় দেয়া লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, মোঃ রিমন (৩৮)পিতা অজ্ঞাত, আজাদ (২৯)পিতা : মোখলেস মিয়া, সাং চিলাউড়া, থানা : জগন্নাথপুর জেলা : সুনামগঞ্জ। বর্তমান, সাং -শান্তিবাগ থানা : রামপুরা। জাহিদ (৩২),সুব্রত (৩০) রোজা (২৫) সর্ব পিতা অজ্ঞাত, থানা- সুনামগঞ্জ, জেলা সিলেটসহ অজ্ঞাত ৭/৮ জনের নামে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করেন।

একাধিক সুত্রে জানা যায়, জাবান হোটেলের ম্যানেজার ও কর্মচারীদের মারধর করে ১ লাখ টাকা ছিঁনিয়ে নেয়া অভিযুক্তরা সিলেটের বাসিন্দা, তবে তারা সবাই যমুনা ফিউচার পার্কে ব্যবসা করে। জানা যায়, তারা সবাই প্রায় রাতেই গুলশান, বনানী ও উত্তরার বিভিন্ন মদের বার গুলোতে নিয়মিত আসা যাওয়া করে। ঐ সব বারে গিয়ে তারা প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত মদ পান করে রাতের বেলায় মাতালামি করে। এ ছাড়াও তারা রাত বিরাতে এ দিক সেদিন ঘুরে বেড়ায় এবং কারণে অকারণে মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ রিমনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ঘটনার দিন সকালে সিলেট থেকে আশার সময় তারা কয়েকজন মিলে নাস্তা খাওয়ার জন্য টঙ্গীর জাবান হোটেলে যায়। জাবান হোটেলে সর্বশেষ কবে নাস্তা খেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৩ বছর আগে খেয়েছিলেন।

নাস্তা খাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জাবান হোটেলের পরিচালক সায়মন নাগরিক টেলিভিশনকে বলেন, এই রেস্টুরেন্টে নাস্তা বিক্রি করা হয় না। তারা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে এসেছে, হোটেল স্টাফদের মারধর করেছে, হোটেলের রিপোটেশন খারাপ করতেই এসেছে।

তাছাড়া সিলেট থেকে আশার সময় নয় ; তারা উত্তরার একটি বারে সারারাত মদ খেয়ে মাতাল হয়ে এসেছে। এ ঘটনায় টঙ্গীর আমতলি এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে যেই হোটেলে সকালে নাস্তা বিক্রি করা হয় না, সেই হোটেলে কি উদ্দেশ্য তারা নাস্তা খেতে গেলেন তদন্ত করে দেখা দরকার।

জাবান হোটেলের ৯ তলার কাউন্টার থেকে টাকা ছিঁনিয়ে নেওয়ার বিষয় জানতে চাইলে অভিযুক্ত মোঃ রিমন বলেন, তিনি একজন ব্যবসায়ী টাকা ছিঁনিয়ে নিবো কেন? তার সাথে থাকা কোন লোকও টাকা নেয়নি। তিনি আরো বলেন, তারাও টঙ্গী পূর্বথানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ঢাকায় আবাসিক হোটেলের খাবার খেয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ প্রবাসীর মৃত্যুর অভিযোগ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন