১৪/০২/২০২৬, ৪:২৬ পূর্বাহ্ণ
18 C
Dhaka
১৪/০২/২০২৬, ৪:২৬ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

হাজীগঞ্জে একটি লীজকৃত দীঘিকে ঘিরে জীবন শঙ্কায় এক বিধবা নারীর পরিবার

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে রেলওয়ের থেকে লীজকৃত একটি দীঘিকে ঘিরে ছেলে সন্তানদের নিয়ে জীবন শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন এক বিধবা নারী। প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি ও চক্ষু রোষানলে দিনাতিপাত করছেন তারা।

৩ সেপ্টেম্বর বুধবার তারা গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তাদের এই আর্তনাদ তুলে ধরেন।

ভুক্তভোগী ওই নারীর নাম আমেনা বেগম। তিনি হাজীগঞ্জ পৌর ৪নং ওয়ার্ডের মকিমাবাদ এলাকার বাসিন্দা। গেলো কয়েক বছর পূর্বে তার স্বামী স্বপন মারা যান। তার স্বামী ছিলেন রেলষ্টেশনের সর্দার এবং মাছ চাষ ও কৃষি কাজ করতেন। সে সুবাধে ধারদেনা করে ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর প্রকাশ্য নিলামে সর্বোচ্চ ডাককরী হিসেবে ৭ লাখ ৩৩ হাজার ২০৪ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করে লিজ নেয়। আর তার মৃত্যুর পর এ দীঘিটি নিয়েই ঘটছে যত বিপত্তি।

আমেনা বেগম বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর দীঘিটি আমিই চাষ করছিলাম। স্বামীর মৃত্যুজনিত কারনে ২০২২ সালের ২০ এপ্রিল ১.৮২ একর ওই দীঘিটির জন্য রেলওয়ে চট্টগ্রামের প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করি। বর্তমানে আমার দখলীয় ওই দীঘিতে কোনরূপ আইনি পদক্ষেপ ব্যতীত উচ্ছেদের জন্য একটি মহল আমাকে অসহায় দুর্বল ও স্বামীহীন পেয়ে অবৈধ উচ্ছেদের সকল কার্যক্রম চলমান রেখেছে। যেখানে আমাদের চুক্তিপত্রের পক্ষ বাংলাদেশ রেলওয়েরসহিত আমার কোনরূপ বিরোধ দৃশ্যমান নয়।

আমেনা বেগম বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের সহিত উক্ত ভূমি সংক্রান্ত কোন ধরনের বিরোধ উৎপত্তি হলে তা নিরসনের জন্য এতে প্রায়োগিক আইনি বিধান হলো অ্যামিটিশন অ্যাক্ট ২০০১ পক্ষদের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিনামা ২৫ নাম্বার দফা। যেখানে বাংলাদেশ রেলওয়ে বনাম স্বপনের সহিত বর্তমানে অভিযোগ কারী আমি আমেনা বেগমের ভূমি সম্পত্তির চুক্তিপত্রের ২৫ নং কলামে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ্য যে উভয় পক্ষের মধ্যে যদি কোন বিরোধ তৈরি হয় তাহলে বাংলাদেশের আর্মিটেশন অ্যাক্ট বলবৎ হবে। অর্থাৎ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আমার সাথে কোন বিরোধ সৃষ্টি হলে অ্যামিটেশন অ্যাক্টের নিয়ম ব্যাতিত উক্ত সৃষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তি না করে অন্য কোন আইনি ফোরাম অনুসরণ করতে পারবে না। যদি করে থাকে তাহলে দেওয়ানী কার্য বিধি আইন ১৯০৮ এর ১৮/৭ রোল ১১ অনুযায়ী আইনগত ত্রুটি মূলে এটি অচল অবস্থায় পড়িবে।

আমেনা বেগম বলেন, ২০১৭ সাল হতে এটা যে আমার দখলে তা প্রমানিত। এটা বৈধ কিনা তা দেখার দায়িত্ব আদালতের কোন ব্যাক্তির নয়! অতছ মাছ চাষের জন্য একটি মহল আমার অনুমতি ছাড়াই রাতের অন্ধকারে দীঘির সমস্ত মাছ ধরে নিয়ে গেছে যা ফৌজদারি অপরাধ। দন্ড বিধি আইনে ৩৭৮, ৩৮৩ ও ৩৮৪ তে বলা আছে এটা হতে পারে চুরি বা বল পূর্বক গ্রহন। প্রতিপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী তাদের কাছে স্টাম্প ব্যতীত রাষ্ট্রীয় স্মারক যুক্ত কোন কাগজপত্র বা আমাকে উচ্ছেদের ক্ষেত্রে কোন প্রামানিক দলিল নেই। তাই আমি আইনগত পদ্ধতি অনুসরণ করে বসতে প্রস্তুত। যদিও প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় ন্যায় বিচার নিয়েও আমি শঙ্কিত।

আমেনা বেগম ছোট ছেলে মেহেরাজ বলেন, আমি একজন ফল বিক্রেতা। ফুটপাতে কলাসহ নানান ফল বিক্রি করছি। আমার পড়ালেখা ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত। জীবনে কখনও রাজনীতি কি বলতেও পারবো না। এখন এই দীঘিটি দখলে নিতে একটি মহল আমার মাকে প্রাণে মেরা ফেলাসহ আমাকে ছাত্রলীগ বানিয়ে রাজনৈতিক মামলায় জড়িয়ে নানাভাবে হয়রানী করার হুমকি ধমকি দিচ্ছে। তাকে ও তার মাকে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ হুমকিদাতা হিসেবে বিএনপি নেতা হাসান ও হুসাইন এর নাম বলছেন।

মেহরাজ আরও বলেন, যে দীঘি ২০১৭ সালে ৭ লাখ টাকায় লীজ হয় সেটা এখন এই ২০২৫ এ এসে কিভাবে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৩৩৫ টাকা হতে পারে? আমরা দীর্ঘ সময় এটা লীজ রেখেও কেন মাছগুলো ধরে নিতে পারিনি সেই প্রশ্ন রইলো?

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ফয়সাল হোসাইন ও তার ছোট ভাই পৌর বিএনপির সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন,এ জলাশয় ঘিরে আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছি। এখানে আমাদের কেনো জড়ানো হচ্ছে তা বুজতে পারছি না। আমরা আমেনা বেগম বা তার ছেলেকে কোন প্রকার ভয়ভীতি বা হুমকি ধমকি দেইনি।

এদিকে এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ খোরশেদ আলম বলেন,এই দিঘিটি হচ্ছে আড়াই একরের। এর কোন ইজারাই ছিলো না। এটা এমনি ছিলো। আমার লাগোয়া (রেলওয়ের জমির সাথে মালিকানা জমি থাকা) জমি থাকার কারনে আমি দরখাস্ত করে রেল থেকে এটার লীজটা এনেছি। প্রকৃতপক্ষে আমি নিজেই এটা লীজ নিয়েছি। প্রতিপক্ষ এটা দীর্ঘ ছয় বছরের খাজনা বাকি হওয়ায় তারা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে যায়নি। না যাওয়ায় এটি টেন্ডার এর মতো হয়ে গিয়েছিলো। আমেনা নামে ঐ মহিলা এই দিঘীটা ১ বছরের জন্য একজনকে ভাড়া দিয়েছে। তারাই বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিয়ে যাওয়ার পর আমরা মাছ ছেড়েছি যার সাক্ষী অনেকেই। ঐ মহিলা মিলন নামের অন্য একজনকে যে ভাড়া দিয়েছিলো এই তথ্যও আমদের কাছে আছে। এখন তিনি নানা অপপ্রচারসহ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।

এ বিষয়ে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের সাবেক ষ্টেশন মাষ্টার আব্দুল মান্নান বলেন, এটা স্বপনের নামে লাইসেন্স করা ছিলো দিঘীটি। মূলত স্বপনের মৃত্যুর পর তখন রেল কর্তৃপক্ষ দিঘীর খাজনা আদায় বন্ধ রেখেছিলো। যে কারনে আমেনা বেগম চেষ্টা করেও খাজনা দিতে পারেনি। এখন সরকার পরিবর্তনের পর বর্তমান সরকার পুনরায় দীঘিটির খাজনা আদায় শুরু করলে সে সুযোগেই হয়তো খোরশেদ আলম এটি লীজ নিয়েছেন।

এদিকে দীঘিটি কোন প্রেক্ষিতে খোরশেদ আলম লীজ পেলেন সে বিষয়ে রেলওয়ের লাকসামের কানুনগো ইকবাল বলেন, আমেনা নামে ওই মহিলার দিঘীটির লীজের মেয়াদ ২০১৯ সালেই শেষ। এরপর তিনি যে এটা ভোগ দখল ও ভাড়া দিয়েছেন তা অবৈধ। তাই ঐ সময় ধরে দিঘীটির যাবতীয় খাজনা দিতে তাকে দ্রুতই নোটিশ করা হবে। আর লাগোয়া হওয়ায় খোরশেদ আলমের আবেদনের প্রেক্ষিতে এটি লীজ পেয়েছেন এবং খাজনাও দিয়েছেন। কম টাকায় খাজনা দেয়া হয়নি। মূল বিষয় হচ্ছে, স্বপন যখন দিঘীটি লীজ নিয়েছিলো তখন সেটি ৫ বছরের হওয়ার কারনে সেটা ৭ লাখ ছাড়িয়েছিলো। আর বর্তমানে খোরশেদ নামে যিনি লীজ নিয়েছেন তিনি ২ বছরের জন্য লীজ নেয়ায় তার টাকার পরিমাণ কম। যেহেতু আমেনা বেগম অবৈধ ভোগ দখলদারি ছিলো তাই তাকে জানিয়ে অন্য কাউকে লীজ দিতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা রেলের নেই। তবে তিনি যদি আইনী লড়াইয়ে খোরশেদ আলমেদ লীজ বাতিল করে আসতে পারেন। তাহলে অবশ্যই তাকে পুনরায় দীঘিটি বুজিয়ে দেয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : হাজীগঞ্জে গণিত পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র ভাংচুর

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন